১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীয়তপুরকে ঢাকা বিভাগে রাখার দাবি, পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় অবরোধ

“প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগ থেকে শরীয়তপুরের নাম বাদ দেওয়া না হলে পদ্মা সেতু ব্লকেড করে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়া হবে।”

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Oct 2025, 05:30 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:28 PM

শরীয়তপুর জেলাকে ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করেছে ‘জাগো শরীয়তপুর’ নামে একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে ৩০ মিনিট ধরে চলা এই কর্মসূচির জন্য পদ্মা সেতুতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে।

এর আগে একই স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। সকাল ১০টার পর থেকেই পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে জড়ো হতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধন শেষে টোল প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে শরীয়তপুর জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে ভৌগোলিক দিক থেকে শরীয়তপুর থেকে ফরিদপুরের তুলনায় ঢাকার দূরত্ব কম। 

এছাড়া শরীয়তপুরের সঙ্গে ঢাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, ব্যবসা বাণিজ্যের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে সেগুলো আরও সহজ হয়েছে। তাই শরীয়তপুরবাসী কোনোভাবেই ফরিদপুর বিভাগে যেতে চাচ্ছে না।

আন্দোলনকারীরা শরীয়তপুরকে ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আলামিন নামের একজন বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সঙ্গে রয়েছি। এছাড়া ফরিদপুর থেকে ঢাকায় সহজে যাতায়াত করতে পারি। 

“কোনোভাবেই ফরিদপুর বিভাগে যাবো না। যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাবো।”

‘জাগো শরীয়তপুরের’ আহ্বায়ক আমিন মোহাম্মদ জিতু বলেন, “আমরা আজ ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছি। প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগ থেকে শরীয়তপুরের নাম বাদ দেওয়া না হলে লাখ লাখ মানুষ মিলে পদ্মা সেতু ব্লকেড করে দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেওয়া হবে।”

অবরোধের কারণে টোল প্লাজার সামনে আটকা পড়ে শতাধিক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন। আন্দোলনকারীরা শরীয়তপুরকে ফরিদপুর বিভাগের অর্ন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। 

পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি গোলাম রসুল বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল। আমাদের অনুরোধে আন্দোলনকারীরা পরবর্তীতে সরে যান।”