১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নোয়াখালীতে তিন বন্ধুকে হত্যার মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

মাইজদী বাজার এলাকায় ২০১৬ সালে কুকুরকে পুকুরে গোসল করানো নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে তিন বন্ধুকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

নোয়াখালীতে তিন বন্ধুকে হত্যার মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামিদের মধ্যে একমাত্র ফিরোজ আলম বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর আসামিরা পলাতক।

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2026, 04:50 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:57 PM

নোয়াখালী জেলা সদরে গুলি করে তিন বন্ধুকে হত্যার আলোচিত মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন মো. খাইরুলওয়ালা।

তিনি বলেন, রায়ে এ মামলার দুই আসামিকে খালাসও দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের কুদরত উল্লার দুই ছেলে ওমর নাসির সাজু (৩২) ও ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার তোফায়েল আহমদের ছেলে মো. সৌরভ (২৭)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), মফিজ উল্লার ছেলে কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও প্রয়াত মোহাম্মদ উল্লার ছেলে হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।

রায় ঘোষণার সময় এ মামলায় গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর আসামিরা পলাতক। 

মামলার এজাহারের বরাতে আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজসংলগ্ন একটি হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে আসামিদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে সালিস বৈঠক বসে। সেখানে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব ও ওয়াসিমও উপস্থিত ছিলেন।

কিন্তু সালিসের আগেই সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে আনোয়ার ও তার বন্ধুদের ওপর হামলা চালায়। তাদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত রাজিবের মা কামরুন নাহার বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। 

দীর্ঘ আইনি পক্রিয়া শেষে এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাফাক্কার হোসেন মো. খাইরুলওয়ালা। তিনি দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করার দাবিও জানিয়েছেন।  

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শামসুদ্দিন এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।