Published : 25 Apr 2026, 11:44 AM
একদিকে সারাদেশের মত কুমিল্লা অঞ্চলে বিদ্যুতের ‘ভয়াবহ’ লোডশেডিংয়ে মানুষ ক্ষুব্ধ; অন্যদিকে ছয় জেলায় ‘বিশাল’ বকেয়া বিল নিয়ে বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলে কুমিল্লা অঞ্চলের ছয় জেলায় বকেয়া বিল ১৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে নিয়মিত মাসিক বকেয়া ৫৮ কোটি এবং দীর্ঘস্থায়ী বকেয়া রয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। স্থায়ী বকেয়া বিলের বেশিরভাগই রাষ্ট্রীয় জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের।
পিডিবি কুমিল্লা অঞ্চল বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির বলছিলেন, কুমিল্লা অঞ্চলের ছয় জেলা কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচ লাখ ৯০ হাজার পোস্ট পেইড গ্রাহক রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বকেয়া বিল রয়েছে চাঁদপুর পৌরসভার কাছে; ১৯ কোটি টাকা। একই দশা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের। সাত কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে প্রতিষ্ঠানটি।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দীর্ঘদিনের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দুই কোটিরও বেশি।
রেলওয়ে কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাছে ৮৬ লাখ টাকা দীর্ঘদিন যাবত আদায় করতে পারছে না বিদ্যুৎ বিভাগ।
আর গ্রাহক পর্যায়ে নিয়মিত মাসিক যে বকেয়া রয়েছে সেগুলো বিল পেলে পূরণ হয়, আবার বকেয়া হয়- এভাবেই চলছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, ২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চাঁদপুর পৌরসভায় দুই লাখ বাসিন্দা। তিনটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, সড়ক বাতিসহ নানান খাতে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। হিসাব মতে, প্রতিষ্ঠানটির কাছে সোয়া ছয় বছর বা ৭৫ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ১৯ কোটি টাকা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খীসা বলেন, “দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল নিয়মিত পরিশোধ না করায় বিলের বিশাল অংক মাথায় চেপেছে। আমরা চেষ্টা করছি, মাসে মাসে বকেয়া বিল পরিশোধ করতে।”
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বিগত সময়ের মেয়র, প্রশাসক ও দপ্তর প্রধানদের আন্তরিকতার অভাব ও অবহেলার কারণেই বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের এই জট তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ যেমন রাষ্ট্রীয় সেবা সংস্থা তেমনি আমরাও নাগরিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। দুই প্রতিষ্ঠানই একে অপরকে সহযোগিতার মাধ্যমে এই বিল কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করছি।
“আমি এরই মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করেছি এবং আমার সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছি বিল প্রদানের।”
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক জসিম উদ্দিন বলেন, “লক্ষ্মীপুরে অনেক বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আছে। আমি তা জানি। আমরা চেষ্টা করব, বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় এসব বিল কমিয়ে আনতে।”
রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠানে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের দীর্ঘজট থাকলেও জনসেবার কথা বিবেচনায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মত কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন পিডিবি কুমিল্লা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সানা উল্লাহ।
তিনি বলেন, “আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের স্বতন্ত্র আদালত রয়েছে। আমরা প্রতি মাসে গড়ে ৩০টি অবৈধ সংযোগ শনাক্ত করি এবং বিচ্ছিন্ন করি। আমাদের বিদ্যুৎ আদালতের নিজস্ব বিচারকের মাধ্যমে প্রতিবছর ৩০০ থেকে ৪০০ মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।”
পিডিবি কুমিল্লা অঞ্চল বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির বলেন, পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলে কুমিল্লা অঞ্চলে অফপিক আওয়ারে এক হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ার এক হাজার ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। বিদ্যুতের সঙ্কট থাকায় বর্তমানে ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের ধকল সহ্য করতে হচ্ছে এই অঞ্চলকে।
“আমরা আমাদের চাহিদার ১৯০ মেগাওয়াট ভারতের ত্রিপুরা থেকে আমদানি করি। বাকিটা দেশি প্রতিষ্ঠান থেকে কিনে ব্যবহার করা হয়। বিশাল অঙ্কের বকেয়ার টাকা নিয়মিত পরিশোধ হলে স্থানীয় গ্রিডে লোডশেডিং কমানো সম্ভব।”