Published : 12 Jan 2026, 02:30 PM
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত সংলগ্ন নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে এক যুবক আহত হয়েছেন।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে হোয়াইক্যং সীমান্তে ‘শাহাজাহান দ্বীপে’ এ ঘটনা ঘটে বলে উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৬৪ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “মাছ ধরতে যাওয়া সীমান্তের নাফনদে একজন যুবক মাইন বিস্ফোরণের খবর পেয়েছি।”
এর আগে রোববার একই এলাকায় মিয়ানমারের ছোঁড়া গুলিতে আহত এক শিশু চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে।
মাইন বিস্ফোরণে আহত ২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হানিফ টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ের লম্ববিল গ্রামের ফজল করিমের ছেলে।
এদিকে মাইন বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তার দাবিতে টেকনাফ-হোয়াইক্যং সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় লোকজন। পাশাপাশি গুলিতে আহত শিশু হুজাইফা আফনানের চিকিৎসা ও নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধনও করেন তারা।
হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিলের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিন বলেন, “মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত শিশু আফনানের চিকিৎসাসহ স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার দাবিতে সকালে আমরা সরকারের সহযোগিতা চেয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম।”

“এ সময় সীমান্তের নাফ নদে এক জেলে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে বলে খবর আসে। তখন স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে সড়ক অবরোধ করে।”
তিনি বলেন, “এভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে কিভাবে সীমান্তের মানুষ বসবাস করবে। আমরা মৃত্যুর মুখে রয়েছি। আমরা শান্তি চাই, জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বাচঁতে চাই।”
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, “সীমান্তে এক জেলে মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছে। এছাড়া হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির কারণে সীমান্তের বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।”
টেকনাফ-হোয়াইক্যং সড়ক অবরোধ করে রাখা বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল বলেন, “প্রাথমিকভাবে জেনেছি সীমান্তের কাছাকাছি কিছু জায়গায় ‘মাইন পুঁতে’ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কোন জায়গায় রয়েছে, সেটি জানতে আমরা কাজ করছি। আমরা স্থানীয় লোকজনকে সচেতনতা করছি যাতে, সীমান্তে ঘোরাঘুরি না করে।”
সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি।’
টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি- আরসার মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গত তিন দিন ধরে সীমান্তের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলিতে এপারেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।