Published : 28 Sep 2025, 11:21 AM
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনজন ফায়ার ফাইটারসহ চারজনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও বেদনা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “অগ্নিকাণ্ডে জীবন রক্ষার মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের তিনজন সাহসী ফায়ার ফাইটারসহ চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা।
“আমি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “অগ্নি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় নিয়োজিত থাকেন। নিজেদের জীবনের মায়া ত্যাগ করে তারা অন্যের জীবন বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের এই আত্মত্যাগের কাছে জাতি চিরঋণী।
“আজকের এই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল যে, দায়িত্ব পালনের সময় তারা কত বড় ঝুঁকি বহন করেন। তাদের এ মহৎ ত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
গত সোমবার টঙ্গীর সাহারা মার্কেটে একটি রাসায়নিকের কারখানায় আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের চার কর্মীসহ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে তিনজন ফায়ার ফাইটার এবং স্থানীয় এক দোকান কর্মচারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
স্থানীয়রা বলছেন, টিনশেডের গুদামটি একটি পোশাক কারখানার। সোমবার বিকালে হঠাৎ সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ভেতরে থাকা লোকজন দৌড়ে বের হয়ে আসেন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নেভানোর কাজ শুরুর পর রাসায়নিকের এক ড্রামের বিস্ফোরণ ঘটে। তাতেই সবাই দগ্ধ হন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই দুর্ঘটনায় আমরা শুধু কয়েকজন প্রাণ হারাইনি, বরং দৃষ্টান্ত দেখলাম আমাদের সাহস, মানবিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতীকের। ফায়ার সার্ভিস দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সাহসী বাহিনী। সংকটময় সময়ে তারাই প্রথম ঝাঁপিয়ে পড়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আজ সেই মহৎ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের জীবন দিতে হয়েছে। এটি সমগ্র জাতির জন্য গভীর শোকের বিষয়।”
শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সান্ত্বনা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের প্রিয়জনরা নিছক প্রাণ হারাননি, তারা জাতির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষ তাদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আমি আপনাদের বেদনা ভাগ করে নিচ্ছি, এবং দোয়া করছি আল্লাহ যেন আপনাদের ধৈর্য ও শক্তি দেন এই কঠিন সময়ে।”
প্রধান উপদেষ্টা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “এই বেদনাবহ ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়। তবে তাদের আত্মত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে—যাতে আমরা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে পারি।”