১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ঈদযাত্রা: ‘বাসে টিকেটের দাম দ্বিগুণ, বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠছি’

সাভার শিল্পাঞ্চল থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে ঘরে ফিরছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

সাভার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Mar 2026, 09:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:11 PM

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঢাকার সাভার শিল্পাঞ্চল ও এর আশপাশের এলাকার ঘরমুখো মানুষের স্রোত নেমেছে মহাসড়কে।

তবে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের অভাব এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে এক শ্রেণির নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছেন। 

তাদেরি একজন পোশাক শ্রমিক রোকসানা আক্তার। তিনি বলেন, “বাসে টিকিট পাই নাই, আর পাইলেও দাম ডাবল। পরিবার নিয়ে বাড়ি তো যাইতে হবে, তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকে উঠছি।”

সাভারের ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দেখা গেছে, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গগামী শত শত যাত্রী মালবাহী ট্রাকে চড়ে গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। বড় বড় ট্রাকে ত্রিপল বিছিয়ে তার ওপর নারী, পুরুষ ও শিশুদের তোলা হচ্ছে। আবার মালবাহী ট্রাকে অনেককে মই দিয়ে উঠতে দেখা গেছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাসের টিকিট না পাওয়া অথবা টিকিটের আকাশচুম্বী দামের কারণেই তারা অনিরাপদ এ পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষ করে সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের একটি বড় অংশ অল্প খরচে বাড়ি ফিরতে ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানকে শেষ সম্বল হিসেবে দেখছেন।

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শাহজাহান বলেন, খোলা ট্রাকে বা মালামালের ওপর বসে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র রোদ, ধুলোবালি এবং মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের মাঝে এভাবে যাতায়াত যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। 

“আমরা হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা তৎপর। আজও কয়েকজনকে ট্রাকের উপর থেকে নামিয়ে দিয়েছি। মানুষ নিজেরা যদি সচেতন না হয় ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত বন্ধ করা সম্ভব নয়”, যোগ করেন তিনি।

মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা সত্ত্বেও মালবাহী ট্রাকের উপর উঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।