১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবি শিক্ষক হত্যা: ২ শিক্ষক ও কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

বিচারক মোস্তফা পারভেজ এই আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Mar 2026, 06:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:10 PM

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার আসামি দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

রোববার কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মোস্তফা পারভেজ এই আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান।

আসামিরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান এবং বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার এবং বর্তমানে উম্মুল মোমেনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস। 

পুলিশ জানায়, তিন আসামির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুন। শুনানি শেষে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বিভাগসহ বর্হিগমন বিভাগের পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। 

তদন্তকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রসহ সব আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। বিভিন্ন আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। আশা করা যায়, তারা খুব শিগগির গ্রেপ্তার হবে।” 

তিনি বলেন, “মামলার প্রধান আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। তিনি সুস্থ হয়ে কথা বলতে পারলেই এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করতে হবে।”

বিকালে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে তার কক্ষে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও গলায় ক্ষতসহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ, প্রশাসন দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নারী শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন শিক্ষিকা রুনাকে দাফনের পর পর তার স্বামী মুহা. ইমতিয়াজ সুলতান চারজনকে আসামি করে মামলা করেন।

‘অতীতের কিছু ঘটনা’, অফিস সহায়কের বদলি, একজন শিক্ষকের বিভাগীয় প্রধান হওয়ার ‘দুরভিসন্ধি’র পরিপ্রক্ষিতে বিভাগের তিন সহকর্মীর ‘সরাসরি প্ররোচনা ও নির্দেশনায়’ একজন কর্মচারী কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরি মেরে হত্যা করেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি ফজলু বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের শান্তিডাঙ্গা গ্রামের হামিদুর রহমানের ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।

আসমা সাদিয়া রুনা দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরের আশিকুল হক রুহুলের মেয়ে। তার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খণ্ডকালীন শিক্ষক। এই দম্পতির তিন মেয়ে ও এক ছেলে। তারা কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকার মীর মশাররফ হোসেন সড়কে থাকেন।

আরও পড়ুন:

ইবি শিক্ষক হত্যায় জড়িত 'মাস্টারমাইন্ডকেগ্রেপ্তার দাবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হত্যার তদন্তে কমিটি

ইবির শিক্ষক হত্যার বিষয়ে যা জানা যাচ্ছে

ইবি শিক্ষক রুনার দাফনতিন সহকর্মী ও কর্মচারীর নামে হত্যা মামলা

ইবি শিক্ষক রুনা খুন কর্মচারীকে বদলির জেরে?

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নারী শিক্ষক খুন