Published : 18 Mar 2025, 05:05 PM
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় কথা কাটাকাটির জেরে একটি বাজারে হামলা চালিয়েছে পাশের গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা।
এ সময় ১৫ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি অন্তত ১৭টি দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা ও মালামাল লুট-পাট করা হয় বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার হাজরানিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, সোমবার বাজারের ভোটমারী গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে হাজরানিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মিন্টুর বাকবিতণ্ডা হয়।
এর মধ্যে রাতে বাজারে অবস্থান নেওয়া মোজাম খাঁ নামে এক ব্যক্তিকে পূর্ববিরোধের জেরে লাঠিসোটা নিয়ে মারধর শুরু করে একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় মিন্টুসহ বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। তখন দুর্বৃত্তরা ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় বাজারের অন্তত ১৭টি দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত হন ১৫ জন।
আহতরা হলেন- মোজাম খাঁ, মশিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন, রবিউল ইসলাম, মতিউল ইসলাম ঝন্টু, মকসুদার রহমান, জিয়ারুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, রিয়াজুল ইসলাম, বুলু মিয়া, ভুট্টা, জাহাঙ্গীর হোসেন, একাব্বর মিয়া, ফরিদুল ইসলাম, আবু সায়েম, নয়ন মিয়া।
তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মুদি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে বাজারে কথা কাটাকাটি হয়। এই কারণে দোকানগুলোতে হামলা করে লুটপাট করবে এটা আমরা ভাবতে পারিনি। দোকানের মালামালসহ যে পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে সেটি একেবারেই অমানবিক।”
আহত ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন বলেন, “হামলাকারীরা হঠাৎ আমাদের দোকানে আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ সময় টাকা ও মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে কীভাবে ঈদ পালন করব বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয়রা জানান, হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এই হামলার পর ব্যবসায়ীরা বাজারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন।
কালীগঞ্জ থানার ওসি সেলিম মালিক বলেন, “খবর পেয়ে যৌথবাহিনীর একটি টিম নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং আহত ব্যবসায়ীরা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
ওসি জানান, এই ঘটনায় ব্যবসায়ী রেয়াজুল ইসলাম ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান ওসি।