Published : 08 May 2026, 05:06 PM
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নওগাঁর পতিসরে কৃষকদের উন্নয়নে কৃষি ব্যাংকের কার্যক্রম চালু করেছিলেন এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের সেই ভাবনাকে ধারণ করে বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নে কাজ করছে।
শুক্রবার কালিগ্রাম পরগনার পতিসর কাচারিবাড়িতে কবির ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, “রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পুরোপুরি আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। সাহিত্যের সব শাখায় তার বিচরণ ছিল। কবিতা, গান, নাটক, গদ্য- সবখানেই তার অবাধ উপস্থিতি ছিল।”
তিনি বলেন, ‘গীতাঞ্জলি’ লিখে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
রবীন্দ্রনাথকে ‘অসাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, একটি গোষ্ঠী তাকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে, যা জ্ঞানের অভাব থেকেই করা হয়।
অনুষ্ঠানে নিজের সাহিত্যপ্রেমের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “আমি রবীন্দ্রনাথ, নজরুলসহ সব ধরনের সাহিত্য ভালোবাসি। তবে নিজে কিছু লিখতে পারি না। যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা পড়ে বা গান শোনে, সে অবশ্যই ভালো মানুষ হয়।”
বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তার বাবা মুসলিম লীগের রাজনীতি করতেন। প্রতিদিন সকালে হাঁটা শেষে রবীন্দ্রনাথের ‘শাহজাহান’ কবিতা আবৃত্তি করতেন।
১৯০৫ সালে কৃষকদের মহাজনি ঋণের শোষণ থেকে রক্ষা করতে রবীন্দ্রনাথ পতিসরে একটি কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। এ জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার থেকে পাওয়া অর্থসহ নিজের তহবিলের টাকা ব্যয় করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
স্বাগত বক্তব্য দেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ ছাড়া নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু উপস্থিত ছিলেন।
এদিন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলা শিল্পকলা একাডেমি, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা গান, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
রবীন্দ্রজয়ন্তীকে ঘিরে পতিসর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ কাচারিবাড়ি প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন।