কুষ্টিয়ায় কবর থেকে সেই পীরের লাশ তোলার ঘটনায় ভক্ত গ্রেপ্তার
কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে নিজ আস্তানায় হামলায় নিহত পীরকে দাফনের পাঁচ মাস পর লাশ উত্তোলনের ঘটনা ঘটে।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় হামলায় নিহত পীর শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় দাফনের ঘটনায় করা মামলায় এক ভক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর এলাকা থেকে লালা প্রামাণিক (৪২) নামের ওই ভক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান।
লালা স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মেছের প্রামাণিকের ছেলে।
পুলিশ জানায়, ৪ সেপ্টেম্বর রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থান থেকে পীরের লাশ তুলে নেওয়া হয়। পরে তা তার দরবারে নিয়ে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই পীরের ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
পরে প্রশাসনের নির্দেশে দরবার থেকে লাশ তুলে এনে আগের কবরে দাফন করা হয়।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে লালা প্রামাণিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানার এসআই নাসির উদ্দিন বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ওসি খালেদুর রহমান বলেন, “কবর থেকে লাশ তোলার ঘটনায় করা মামলায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় লালা প্রামাণিক নামের ওই ভক্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।”
১১ এপ্রিল কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানায় হামলা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই সময় দুই শতাধিক মানুষ সেখানে হামলা চালায়।
হামলায় পীরকে তার কক্ষ থেকে বের করে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর আস্তানায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে ১২ এপ্রিল দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগরের পাঁচশত বিঘা কবরস্থানে শামীমের লাশ দাফন করা হয়।
আরও পড়ুন-
