Published : 19 Jul 2026, 03:23 PM
বগুড়ায় গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি হেফাজতে এক যুবকের ‘আত্মহত্যা’র ঘটনা ঘটেছে; যিনি অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালককে হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার সকাল ১০টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে হাজতখানার বাথরুমে গলায় লুঙ্গি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছেন বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার।
মৃত মো. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতি মুন্সির ছেলে। তিনি একই উপজেলার অটোরিকশা চালক আব্দুল মান্নান মোল্লা (৪৫) হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।
এর আগে ২৯ জুন সকালে উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলের পাশ থেকে অটোরিকশা চালক মান্নান মোল্লার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মান্নান মোল্লা গাবতলী উপজেলার মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে। এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি থানায় মামলার করা হয়।
ওসি ইকবাল বাহার বলেন, “শনিবার দুপুর ১টার দিকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে আটক করা হয়। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ তিনি মান্নান মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় তিনি ছাড়াও আরও দুজন জড়িত ছিলেন বলেও জানান আসাদ।”
তিনি বলেন, আসাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে তাকে নিয়ে নওগাঁয় অভিযান চালানো হয়। অভিযান শেষে রাতে তাকে নিয়ে আবার ডিবি কার্যালয়ে ফেরা হয়। রাতে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।
“এদিন সকাল ১০টার দিকে আসাদ হাজতখানার বাথরুমে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাইরে আসছেন না, এমনটা সিসিটিভিতে দেখা যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে দেখেন, আসাদ নিজের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন”, বলেন ওসি।
পরে তাকে উদ্ধার করে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ইকবাল বাহার।
বর্তমানে লাশ মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে রাখা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ক্রাইম) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, আসাদ বাথরুমের ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে পরনের লুঙ্গি ঝুলিয়ে গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া অটোরিকশা চালক হত্যা মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।