Published : 30 Aug 2026, 09:26 PM
হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে মারামারি ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় আট শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করা হয়েছে।
শনিবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ শাস্তির কথা জানানো হয়।
১৯ অগাস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে কলেজের ছাত্রাবাস-১ এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে তাফসির আহমেদ নামে এক শিক্ষার্থী আহত হন। তার একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর দিন কলেজের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি বুধবার প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শনিবার অ্যাকাডেমিক সভায় শাস্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রজব সানিকে চার বছর, আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছর এবং আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের সবাইকেই আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য শুধু ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মারামারিতে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে ডি এম এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে সতর্ক করা হয়েছে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জিল্লুল বারী বলেন, ২৯ অগাস্ট থেকে শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে। তবে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সংক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন।