Published : 04 Mar 2025, 11:41 PM
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় বন্যপ্রাণির আক্রমণে একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আহত ব্যক্তির বরাতে তার এক স্বজন বলেছেন, তিনি বাঘের কবলে পড়েছিলেন। বাঘের পায়ের ছাপ দেখার কথাও বলেছেন ওই স্বজন।
দুজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, আক্রমণকারী প্রাণীটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাদের ধারণা, ওই ব্যক্তি ‘চিতা বাঘের’ আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
গত সোমবার ভোর ৪টার দিকে জুরাছড়ি উপজেলার মৈদং ইউনিয়নের মৌন আদাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটার তথ্য দিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সাধনা নন্দ চাকমা।
আহত ব্যক্তির নাম রাঙা চোগা চাকমা (৩৫)। তিনি মৌন আদাম এলাকার মঙ্গল চন্দ্র চাকমার ছেলে।
রাঙার চোগার মামাতো ভাই শান্তি কুমার চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, তার ভাই নিজের মুরগি ঘর মেরামতের জন্য বাড়ির পাশে জঙ্গল থেকে গাছ সংগ্রহ করতে গেলে ‘বাঘের’ কবলে পড়েন। তার মুখের বাম পাশের একাংশ জখম হয়েছে। সেই সঙ্গে বাম কান ও চেখের একটা অংশ এবং হাতের তালু ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এছাড়া শরীরের বেশ কয়েকটি জায়গায় জখম হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাঘ’ কামড় দিতে পারেনি, তার আগেই রাঙা চোগার চিৎকারে ‘বাঘ’ তাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।
দুর্গম এলাকা হওয়ায় চিকিৎসার জন্য রাঙা চোগাকে কাঁধে করে দুই ঘণ্টা পায়ে হেঁটে ফকিরাছড়া গ্রামে নিয়ে গেছেন তুলে ধরে শান্তি কুমার বলেন, সেখানে এক স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক রাঙাকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। ক্ষত স্থানগুলোতে বহু সেলাই করতে হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর।
বন্যপ্রাণি সত্যিই বাঘ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আহত ব্যক্তি রাঙা চোগা নিজেই বাঘটি দেখেছে বলেছেন। তিনি নিজেও ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকটা ‘বাঘের পায়ের ছাপ’ দেখতে পেয়েছেন।
বাঘ বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান সাংবাদিকদের বলেন, “রাঙামাটিতে যদি বাঘ বা রয়েল বেঙ্গল টাইগার থেকে থাকে, কাচালং সংরক্ষিত বনের দিকে দুই-একটি থাকতে পারে। অন্য এলাকায় থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।”
আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারলে আরও ভালোভাবে জানা যেত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি ধারণা করছি, প্রাণীটি লেপার্ড (চিতা বাঘ) হতে পারে। রাঙামাটিতে লেপার্ডের উপস্থিতি আছে।”
একই কথা বলেছেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) বন ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সুপ্রিয় চাকমাও, যিনি সুন্দরবনে বেঙ্গল টাইগার গণনা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
সুপ্রিয় চাকমা বলেন, “বন্যপ্রাণীর আক্রমণে আহত ব্যক্তি সুস্থ হলে উনার ইন্টারভিউ নিলে জানা যাবে, সেই প্রাণীটি কী ছিল। তবে ইন্ডিয়ান লেপার্ডও হতে পারে।”
রাঙামাটির উপবন সংরক্ষক মো. রেজাউল করিম চৌধুরীও ধারণা করছেন প্রাণিটি চিতা বাঘ। তিনি বলেন, “আক্রান্ত ব্যক্তিকে যেভাবে জখম করেছে এতে বোঝাই যাচ্ছে প্রাণিটি বড় ছিল। তবে প্রাণীর শরীর ডোরাকাটা নাকি ছাপ ছাপ ছিল, পায়ের ছাপ দেখতে পারলে বোঝা যেতো।”