Published : 09 Sep 2026, 09:40 PM
কুষ্টিয়ায় সরকারি পশু হাসপাতাল ও চিকিৎসার সরঞ্জাম থাকলেও ছয় উপজেলার মধ্যে চারটিতে নেই ভেটেরিনারি সার্জনসহ চাহিদামত জনবল।
ফলে পশু অসুস্থ হলে সরকারি চিকিৎসা না পেয়ে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে খামারিদের।
কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলায় জনবল সংকট রয়েছে বলে জানান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আল মামুন হোসেন মণ্ডল।
মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার গরু, ২০ হাজার মহিষ, ২০ হাজার ভেড়া, দেড় লাখের বেশি ছাগল এবং পাঁচ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি রয়েছে। কিন্তু উপজেলায় নেই কোনো ভেটেরিনারি সার্জন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ড্রেসার আব্দুর রহমান বলেন, “বিপুল সংখ্যক গবাদিপশুর চিকিৎসা ও সুরক্ষায় পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় খামারি ও চাষিরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।”
এরই মধ্যে জেলাজুড়ে ক্ষুরা রোগ, লাম্পি স্কিন ডিজিজসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ায় চিকিৎসা ও টিকা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন খামারিরা।
দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর গ্রামের চাষি আব্দুল হাকিম বলেন, “এই উপজেলায় পশু ডাক্তার না থাকায় আমরা চরম ভোগান্তিতে আছি। পাশের উপজেলা মিরপুরেও চিকিৎসক নেই। তাহলে পশুর চিকিৎসা নিতে যাব কোথায়?”
তিনি বলেন, “বড় খামারিরা গাড়িতে করে পশু কুষ্টিয়া নিয়ে যান, অথবা টাকা দিয়ে চিকিৎসক বাড়িতে আনেন। কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ খামারিদের পক্ষে সবসময় তা সম্ভব হয় না।”
দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অংকন কুমার কুণ্ডু বলেন, “এখানে ভেটেরিনারি সার্জনের পদটি অনেকদিন ধরেই শূন্য। এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
কুমারখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “এ উপজেলায় প্রায় ২০ বছর ধরে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ শূন্য। গত ফেব্রুয়ারিতে একজন চিকিৎসক যোগ দিলেও দুই মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে পদটি আবারও শূন্য রয়েছে।”
তিনি বলেন, “ওই চিকিৎসকের কাজটিও এখন আমাকে করতে হচ্ছে।”
চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তির কথা জানান কুমারখালীর এলঙ্গীপাড়া গ্রামের খামারি ওহাব উদ্দিন।
তিনি বলেন, “কুমারখালীতে পশু হাসপাতাল আছে এবং সেখানে চিকিৎসা পাওয়া যায়- এটাই আমরা জানতাম না। গত দুই বছরে চিকিৎসার অভাবে আমার একটি গাভী ও একটি বাছুর মারা গেছে। বাছুরটিকে জেলা শহরের পশু হাসপাতালেও নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু বাঁচাতে পারিনি।”
খামারিদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ পশুর চিকিৎসার জন্য বাইরে থেকে চিকিৎসক আনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসকের ফি, যাতায়াত ও ওষুধের পেছনে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অনেক পশুর অবস্থাও খারাপ হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আল মামুন হোসেন মণ্ডল বলেন, “পর্যাপ্ত জনবল সংকটে জেলার পশু হাসপাতালগুলোতে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের উপায় হলো পশু চিকিৎসকসহ চাহিদামতো জনবল নিয়োগ দেওয়া।”
শূন্য পদ পূরণের অনুরোধ জানিয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চার উপজেলায় ভেটেরিনারি সার্জনসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে সেবার সংকট অনেকটাই কাটবে।