Published : 03 Jul 2025, 04:19 PM
নাটোর সদরে ১২ বছর বয়সী এক শিশু শ্রমিকের ঝুলন্ত মরদহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শহরের আলাইপুর এলাকার জান্নাত পর্দা মেলার পাশের একটি বাড়ির কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান নাটোর সদর থানার ওসি মো. মাহাবুর রহমান।
মৃত মো. ইয়াসিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের বীরপাশা এলাকার মনজু মিয়ার ছেলে।
সে আলাইপুরের জান্নাত পর্দা মেলার কারখানায় সহকারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইয়াসিনের সহকর্মী আপন আহমেদ বলেন, “ইয়াসিন ১৫-২০ দিন আজে কাজে যোগ দেয়। সোফার কাজ শেখার জন্যই ওর বাবা-মা এখানে পাঠাইছে। কয়েকদিন ধরেই বাড়ি যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতেছিল। বুধবার বিকালেও ও খুব কান্নাকাটি করছে। কিন্তু আমরা ওর বাবা-মাকে অসংখ্যবার ফোন দিলেও উনারা রিসিভ করেননি। সকালেও ওর মন খারাপ ছিল। সকালেও অনেকবার ফোন দেওয়া হয়েছে কিন্তু ফোন ধরেনি।
“সকালে আমরা খাওয়া দাওয়া করে, ওই কারখানাতে চলে যাই কাজে। তখন খালা ওকে খাওয়াতেছিল। এরপর খালা চলে গেলে একা একা ইয়াসিন গলায় ফাঁস দিয়েছে। খালা ছাতা নিতে এসে দেখে ইয়াসিন গলায় ফাঁসি দিয়ে আছে। আমরা কল্পনাও করিনি ওর মাথায় এমন চিন্তা আসবে।”
চঞ্চল নামে কারখানার আরেক কর্মী বলেন, “কালকে বিকাল থেকে কান্নাকাটি করায় আমরা বুঝলাম ওর মন টিকচ্ছে না। কয়েকটা মোবাইল থেকে ওর বাড়তি অনেকবার ফোন দেওয়া হয়েছে, কেউ ধরেনি। ছোট ছেলেকে এতদূরে একাএকা কিভাবে পাঠাবো আমরা। সকালে হঠাৎ করে এই কাজ করে ফেলছে। আমরা ভাবতেও পারিনি ছোট ছেলেটি এমন কাজ করতে পারবে।”
শিশু শ্রমিক কিভাবে কারখানায় নিয়োগ দিয়েছেন জানতে চাইলে জান্নাত পর্দা মেলার স্বর্তাধিকারী মো. নাসিম হোসাইন বলেন, “বাচ্চাটি আমাদের কারখানাতেই মারা গেছে। কারখানায় পাঁচজনের মতো শ্রমিক কাজ করে। শিশু শ্রমিক কয়জন, এটাতো আমার দায়িত্ব না। আমি ওভাবে খোঁজও নেইনা।
“আমিতো হেডমিস্ত্রী স্বপনের কাছে চুক্তিতে সোফা বানিয়ে নেই, উনি কিভাবে শ্রমিকদের নিয়োগ দিছে আমি জানিনা। উনার বাইরে বাসা নিয়ে ভাড়া থাকতো, কাজ করতো আমার কারখানায়।”
শিশু শ্রমের ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক শেখ আসাদুজ্জামান বলেন, শিশু শ্রমিক কাজ করতে পারবে। আইনে শিশু শ্রমিককে হালকা কাজ করার বৈধতা দেওয়া আছে। নাটোরে নিয়মিতই শিশুশ্রমের বিষয়টি আমরা নজরদারি করি। এ ঘটনায় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাটোর সদর থানার ওসি, মাহাবুর রহমান বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে ছেলেটি। তদন্তের রিপোর্ট পেরে বিস্তারিত জানা যাবে।
এ ঘটনায় ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।