২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শেরপুরে ঘুরছে একটি দলছুট বানর, আপন করে নিয়েছে শহরবাসী

ভালোবেসে মানুষের দেওয়া খাদ্যসামগ্রী কোনো রকম বাঁদরামি ছাড়াই শান্তভাবে গ্রহণ করছে বানরটি।

শেরপুরে ঘুরছে একটি দলছুট বানর, আপন করে নিয়েছে শহরবাসী

নিঃসঙ্গ বানরটি শহরের বিভিন্ন স্থানে গাছ, টিনের চালা, দেয়াল কিংবা পাকা ভবনের কার্নিশে ঘুরে বেড়ায়।

মো. আব্দুর রহিম বাদল

শেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Mar 2023, 05:07 PM

Updated : 30 Mar 2023, 05:07 PM

শেরপুর শহরের আনাচে-কানাচে ও পাড়া-মহল্লায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি বানর। কোথা থেকে কীভাবে প্রাণীটি এসেছে তা জানতে  না পারলেও ভালোবেসে তাকে আপন করে নিয়েছে শহরবাসী। 

স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যে শেরপুর শহরে পোষ মানানো শেকলে বাঁধা বানরের বিভিন্ন ধরনের খেলা দেখেছেন অনেকেই। তবে এর আগে বাড়ির আশপাশে বানরের অবাধে আনাগোনা দেখেছেন বলে কেউ স্মরণ করতে পারেন না। 

তবে এই বয়স্ক বানরটির লোকালয়ে ঘোরাঘুরিতে শহরবাসী অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। বিভিন্ন মহল্লার মানুষরা বানরটিকে আপন করে নিয়ে প্রতিদিন বিস্কুট, কলা, ভাতসহ বিভিন্ন ধরনের ফল খেতে দিচ্ছেন।

বিশেষ করে বানরটির উপস্থিতিতে শিশুদের আনন্দ বেড়ে গেছে। তবে কেউ কেউ ভয়ও পায়; তাই তারা একটু নিরাপদ দূরে থেকে দেখে, আর খাবার দেয়। 

তাদের ভালোবাসার এসব খাদ্যসামগ্রী কোনোরকম বাঁদরামি ছাড়া শান্তভাবেই গ্রহণ বুনো এই প্রাণীটি।  

Image

বানরটি শেরপুর শহরে কবে বা কীভাবে এলো সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিঃসঙ্গ বানরটি দিনের বেলা খাবারের জন্য ঘোরার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে গাছ, টিনের চালা, দেয়াল কিংবা ভবনের কার্নিশে অবস্থান করছে; বাসা-বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল, ছাদ দিয়ে চলাচল করছে। আর রাতযাপন করছে একটু ঝোপঝাড়, গাছপালা আছে এমন স্থানে। 

শেরপুর শহরের গৃদানারায়ণপুরের বাসিন্দা রতন ভৌমিক বলেন, “এই বানরডা দুই মাস ধইরা দেখতাছি। শেরপুর টাউনের সব জায়গাতেই ঘোরাফেরা করছে। 

“তবে এখনও কারো কোনো ক্ষতি করে নাই এবং কোনো অঘটনও ঘটায় নাই। খাওয়া দিলে খায়। এইভাবেই চলতাছে। এটা হয়তো মধুপুর থেকে আসছে।”

একই এলাকার শিশু সূচিনূর আক্তার সূচি বলে, “বানর আইছিল, দেখছি। কলা দিছি, বানর কলা খাইছে। বানর দেইখা আমি খুব খুশি।” 

দলছুট বানরটি কারও কোনো ক্ষতি করছে না। সে তার মনের সুখে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে মাঝেমধ্যে ক্ষুধার জ্বালায় বিভিন্ন বাসাবাড়ির পেয়ারা বা আতা গাছের ফল খেয়ে যায়।  

নয়ানি বাজার মহল্লার বাসিন্দা সুরুজ মিয়া বলেন, “বানরটা এই এলাকায় মাঝে মাঝেই আসে। আইসা বিভিন্ন গাছের ফলফলাদি খায়। কেউ কেউ কলা, টমেটো ও বিস্কুট দিলে খাইয়া আবার চলে যায়। কারও কোনো ক্ষয়ক্ষতি করে না। এমনিতে গাছের ডালে, কারো ছাদে চলাফেরা করে। এটাই দেখা যাচ্ছে।” 

বানরটি শেরপুর শহরে কবে বা কীভাবে এল সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। অনেকেরই ধারণা টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে কলা ও আনারস বহনকারী ট্রাকে বা বাসের ছাদে বসে শেরপুরে এসে থাকতে পারে।

নয়ানি বাজারের বাসিন্দা বৃদ্ধ অজিত চৌধুরী বলেন, “অনেকেই বলছে বানর আসছে শেরপুরে। আইজ আমার চোখে পড়ছে। এই বানরটি মধুপুর থেকে বাসের ছাদে উঠে চলে আসছে বলে মনে হয়।” 

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা কৌশিক চৌধুরী বলেন, “মহল্লায় এই বানরটি মাঝে মাঝেই আসে। এখানে আইসা মানুষের গাছপালার ফলফলাদি খেয়ে যায়। আমাদের কোনো অসুবিধা করে না।

“বাজারের মঙ্গল চন্দ্র সাহার একটি খলার জঙ্গলে এসে রেগুলার থাকে। গাছের আতা ফল ও পেয়ারা – এগুলো খায়। এমনে বাচ্চারা চিপস ও কলা দিলেও খায়। ঘোরাফেরা করলেও কোনো ক্ষতি করে না।” 

জেলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার বলেন, “বানরটি শেরপুর শহরে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে; এক স্থানে থাকছে না। বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে আমাদের নজরদারিতে আছে। 

“প্রাণীটি দলছুট হয়ে কলার ট্রাকে করে এসে থাকতে পারে। দেশের কিছু শহরে বানর আছে, তবে শেরপুরে নেই। তাই বানরটির জন্য শেরপুর শহরের মানুষের আগ্রহ একটু বেশি।”