Published : 20 Aug 2025, 09:48 PM
সাভার পৌরসভার দুই কর্মকর্তার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে একটি ফাইলের ‘ঘুষের পাঁচ হাজার টাকা’ নিয়ে দ্বন্দ্বে এমন মারামারিতে জড়িয়েছেন দুজন।
বুধবার দুপুরে সাভার পৌর কার্যালয়ে এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক আবুবকর সরকার।
মারামারিতে জড়ানো দুই কর্মকর্তা হলেন- সাভার পৌরসভার কর নির্ধারক নাজমুল হাসান ও সহকারী কর আদায়কারী নজরুল ইসলাম।
নাম না প্রকাশের শর্তে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, চলতি বছরের জুন মাসে পৌর এলাকার দক্ষিণ দরিয়াপুর মৌজার একটি হোল্ডিংয়ের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য সাভার পৌরসভায় আবেদন করেন এক বাসিন্দা।
তবে এই আবেদনের জন্য সহকারী কর আদায়কারী নজরুল ইসলাম গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে ১ হাজার ১৫০ টাকার রশীদ দেন এবং কাজটি পেন্ডিং রাখেন।
পরে বুধবার দুপুরে করনির্ধারক নাজমুল হাসান টাকা নেওয়ার বিষয়ে ও ফাইলটির সমাধান নিয়ে নজরুলকে প্রশ্ন করেন। এরপর কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা দুজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
ঘটনার সময় উপস্থিত সাভার পৌরসভার আরেক সহকারী কর নির্ধারক তন্দ্রা ইয়াসমিন বলেন, “নাজমুল ভাই ও নজরুল ভাইয়ের মধ্যে দুপুরে কথা কাটাকাটি করে। পরে তারা দুইজন উত্তেজিত হয়ে একটু হাতাহাতি করেছে। মূলত একটি ফাইলকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।“
তবে ঘুষের টাকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা- জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে কর নির্ধারক নাজমুল হাসান বলেন, “একটি ফাইলের কাজ না করে ফেলে রেখেছে। এ বিষয়ে নজরুলকে জিজ্ঞাসা করতে গেলে সে আমার হাতে ঘুষি মারে। আমি মারতে যাই নাই। ওনি এসে আমাকে অ্যাটাক করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “মূলত ৫ হাজার টাকা নিয়ে ১ হাজার ১৫০ টাকার রশিদ দিয়েছেন তিনি। তাই তাকে জিজ্ঞেস করায় এমন ঘটনা ঘটেছে।”
এ বিষয়ে করা আদায়কারী নজরুল ইসলাম মোবাইলে বলেন, “এটা আমাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কোনো মারামারি হয়নি।”
মারামারির ঘটনা তিনি অস্বীকার করলেও এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দুজনের মারামারির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে নজরুল ইসলাম পৌরসভা ত্যাগ করার সময় তার মাথা থেকে রক্ত ঝরতে দেখা গেছে।
পৌর প্রশাসক ও সাভারের ইউএনও আবুবকর সরকার বলেন, “দুই কর্মকর্তার এমন ঘটনায় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুল ইসলামকে প্রদান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
“কমিটিকে আগামী সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলে হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”