২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বার্ডস গ্রুপের মালিক ‘গ্রেপ্তার’, ৫৩ ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেন শ্রমিকরা

দিনের বেলায় অনেক শ্রমিক থাকলেও রাতে পালা করে শ্রমিকরা সেখানে আন্দোলনে থেকেছেন।

সাভার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Oct 2024, 08:56 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:35 AM

পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠান বার্ডস গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তারের খবরের পর বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং বন্ধ কারখানা খোলার দাবিতে ৫৩ ঘণ্টা ধরে আশুলিয়ায় টানা আন্দোলনে থাকা শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেছেন।  

সোমবার সকাল ৯টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বার্ডস গ্রুপের শ্রমিকরা। বুধবার বিকালে সেনাবাহিনী এসে কারখানার মালিককে গ্রেপ্তারের খবর জানালে শ্রমিক সড়ক ছেড়ে দিয়ে বুড়িবাজার কারখানার সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।  

আশুলিয়া থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “বার্ডস গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে সড়ক ছেড়ে দেয় আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এখন সড়কে যানচলাচল শুরু হয়েছে।” 

পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানান, ২৭ অগাস্ট বার্ডস গ্রুপের আরএনআর ফ্যাশন, বার্ডস গার্মেন্টস লিমিটেড, বার্ডস ফেডরেক্স লিমিটেড এক নোটিশের মাধ্যমে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। সেসময় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও মালিকপক্ষের উপস্থিতিতে সব পাওনা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়। 

শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিটসহ ক্ষতিপূরণের জন্য সোমবার সকালে কারখানায় এলে মালিকপক্ষ ফের তিন মাসের সময় চায়। পরে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। 

শ্রমিকরা সেখানে টানা ৫৩ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেন। দিনের বেলায় অনেক শ্রমিক থাকলেও রাতে বেলায়ও পালা করে শ্রমিকরা সেখানে থেকেছেন। 

বুধবার দুপুরের দিকে সেনা সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে মাইকে বার্ডস গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান। তারা শ্রমিকদের উদ্দেশে বলেন, বার্ডস গ্রপের মালিককে নিয়ে বসে আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। সেনাবাহিনীর আশ্বাসে শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে দেন।

বার্ডস গ্রুপের একজন শ্রমিক বলেন, “আমাদের চুক্তির দিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিশ্বাসযোগ্য লোকজন ছিলেন। কিন্তু সেই চুক্তিও ভঙ্গ করেছে মালিকপক্ষ। ফলে আমরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমাদের অনেক শ্রমিক চাকরি না পেয়ে গ্রামে চলে গিয়েছিলেন। তারা বকেয়া পাওনাদির জন্য গ্রাম থেকে এসেছেন।” 

তবে এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম এবং কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।