Published : 06 Jul 2025, 07:27 PM
বরগুনায় ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ায় এক চালক নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন।
যুবকের অভিযোগ, কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তাকে মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের বক্তব্য কাগজপত্রের জন্য নয় বরং হেলমেট না পরায় তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বরগুনা মাছ বাজার ব্রিজ সংলগ্ন ট্রাফিক বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল।
গাড়িতে আগুন দেওয়া নজরুল ইসলাম পৌরশহরের উকিলপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি বরগুনা-পুরাকাটা রুটে ভাড়ায় (রেন্ট-এ-কার) মোটরসাইকেল চালাতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদ কর্মী শাহ আলী বলেন, নজরুল ইসলামকে জিরো পয়েন্ট ট্রাফিক বক্সের সামনে আটকায় ট্রাফিক সার্জেন্ট। তার সঙ্গে কাগজপত্র না থাকায় তাকে মামলা দিতে চায় পুলিশ। তখন নজরুল বাসা থেকে কাগজ আনার জন্য ছেলেকে পাঠায়।
পুলিশ বক্স থেকে তার বাসার দূরত্ব কয়েক মিটার। ছেলে কাগজপত্র নিয়ে আসলেও পুলিশ মামলা দেয়। এতে ক্ষোভে-কষ্টে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার স্ত্রী অসুস্থ, তাকে ক্লিনিকে রেখে বাসার দিকে আসছিলাম। তখন কাগজ না থাকায় পুলিশ আমাকে আটকায়। এখান থেকে বাসার দূরত্ব ২-১ মিনিটের পথ। ছেলেকে পাঠিয়ে আমি সকল কাগজ আনালেও তারা আমাকে মামলা দেয়।

“এমনকি আমি স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বললে- তারা বলে স্ত্রী অসুস্থ তাতে কী, আপনি তো অসুস্থ না। পরে আমার স্ত্রী এখানে আসলেও তার আকুতি-মিনতি পুলিশ শোনেনি।”
নজরুলের ইসলামের স্ত্রী বলেন, “আমি অনেক দিন ধরে খুব অসুস্থ, আমাকে নিয়ে ডেঙ্গু টেস্ট করাতে নিয়ে গিয়েছিল। পরে টাকা নিতে বাসায় আসার সময় কাগজ না থাকায় তাকে মামলা দিতে চায়। বাসা কাছাকাছি থাকায় ছেলেকে পাঠিয়ে বাসা থেকে কাগজ আনলেও পুলিশ মামলা দিয়ে দেয়। একদিকে আমি অসুস্থ, তার মধ্যে এমন অমানবিক কাজের বিচার চাই।”
তবে ট্রাফিক পুলিশ টিএসআই শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি মাছ বাজারের সামনে দায়িত্বরত ছিলাম। তখন তাকে হেলমেট ছাড়া যেতে দেখে কাগজপত্র দেখতে চাইলে উনি কাগজ নিয়ে আসার জন্য সুযোগ চায়, পরে তার নাম ঠিকানা রেখে কাগজ আনার সুযোগ দেওয়া হয়।
“কাগজপত্র নিয়ে আসলে তাকে কাগজের জন্য কোনো মামলা দেওয়া হয়নি। কিন্তু হেলমেটের জন্য তাকে মামলা দেওয়া হয়। এতে রাগে ক্ষোভে তিনি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ খবর শুনে তার স্ত্রীও চলে আসেন।”
এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “কাগজপত্র দেখানো সত্ত্বেও মামলা দিছে, এই কথাটা সঠিক না। কারণ কাগজ থাকা সত্ত্বেও যখন হেলমেট না পড়ে, রং পার্কিং করে, যখন উল্টো পথে চালায়, এই মামলাগুলোও কিন্তু হয়। এটা আইনে আছে। সুতরাং আইনসঙ্গতভাবেই তাকে মামলাটা দিছে।
তিনি আরও বলেন, “পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াটা একটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এখন যেহেতু তার ওয়াইফ অসুস্থ, তিনি একজন রেন্ট-এ-কার চালক এবং তিনি তার কাজের জন্য অনুতপ্ত।
“এজন্য আমরা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি না। তিনি আমাদের কাছে একটি মুচলেকা দিয়েছে, তাই আমরা মানবিক কারণে তাকে ছেড়ে দিচ্ছি।”