২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

যুবদলকর্মী হত্যা: নারায়ণগঞ্জের সাবেক ডিসি-এসপি ও এমপি আসামি

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মারা যান যুবদলকর্মী শাওন।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2024, 10:03 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:21 PM

নারায়ণগঞ্জে মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবদলকর্মী শাওন আহম্মেদ নিহতের ঘটনায় দুই বছর পর আরেকটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সাবেক পাঁচ সংসদ সদস্যসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার সকালে নিহত শাওনের বড়ভাই মো. মিলন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ওসি নজরুল ইসলাম জানান।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মারা যান যুবদলকর্মী শাওন। 

পরদিন ২ সেপ্টেম্বর সদর মডেল থানায় মামলা করেছিলেন মিলন। ওই মামলায় বিএনপির পাঁচ হাজার অজ্ঞাত নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। 

ওই সময় বাদী মিলন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছিলেন, “মামলাটির বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কিছু জানেন না। পুলিশ তাদের কাছে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল।”

নতুন মামলায় সদ্যসাবেক জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া তৎকালীন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ, আওয়ামী লীগের সাবেক তিন সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমান, নজরুল ইসলাম বাবু, গোলাম দস্তগীর গাজী, জাতীয় পার্টির সাবেক দুই সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে।

মামলাটিতে এসপি ছাড়াও ৩৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ১০০-১৫০ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। পরে এ নিয়ে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিএনপির লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তৎকালীন ডিবি পুলিশের এসআই মাহফুজুর রহমান কনকের হাতে থাকা ‘চায়নিজ রাইফেল’ থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হন যুবদলকর্মী শাওন। নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ৩০০ বিএনপি নেতা-কর্মী আহত হয়েছিলেন বলেও মামলায় বলা হয়েছে। 

এজাহারে বলা হয়েছে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের পর পুলিশি প্রহরায় দাফন করা হয়। জানাজা ও দাফনের সময় নিহতের পরিবার ও দলীয় নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। তৎকালীন পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের উপর তৎকালীন প্রশাসনের প্রচণ্ড চাপ ছিল এবং তারা ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন। 

তখন পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে বিএনপির পাঁচ হাজার লোকের নামে মিথ্যা মামলা করতে বাধ্য করা হয়। পরে আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দিলে তাতে আপত্তি নেই বলেও জোরপূর্বক জবানবন্দি দিতেও বাধ্য করা হয়।

মামলার বাদী মিলন মিয়া বলেন, “ওইদিনের ঘটনা সবাই স্পষ্ট দেখেছে। তারপরও আমাকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করানো হইছিল। প্রশাসন আমাকে জোরজবরদস্তি করে স্বাক্ষর নিছিল। আমাকে থানা হেফাজতে রাখা হইছিল কয়েক ঘণ্টা, সেখান থেকে এসপি অফিসে নিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা জিম্মি রাখছিল। এমনকি লাশও বুঝাইয়া দেয় নাই, পুলিশি পাহাড়ায় মাঝরাতে আমার ভাইয়ের দাফন হইছিল। ওই ঘটনার পর থেকে আমরা অনেকদিন পালাইয়া বেড়াইছি।”

এদিকে, ঘটনার তিন দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে একটি হত্যা মামলার আবেদন করেন। যদিও পরবর্তীতে আবেদনটি খারিজ করে দেয় আদালত।

আদালত মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার পেছনেও তৎকালীন পুলিশ, প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ ছিল বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন নিহত শাওনের ভাই মিলন।