২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অনলাইন জুয়ার জন্য টাকা না পেয়ে দাদিকে হত্যা: ‘স্বীকারোক্তি’ তরুণের

শনিবার রংপুরের পীরগঞ্জের বড় মজিদপুর ঘেগারতল গ্রামের ঘরের ভেতর থেকে ষাটোর্ধ্ব আকলিমা বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Oct 2025, 02:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:31 PM

রংপুরে অনলাইন জুয়ার জন্য টাকা চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দাদিকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এক তরুণ। 

সোমবার সন্ধ্যায় সিনিয়র জুডিসিয়াল আমলি ম্যাজিস্ট্রেট মন্তাজ আলীর আদালতে তরুণ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি শফিকুল ইসলাম। 

১৯ বছর বয়সি অনিক হাসান হৃদয় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার খেদমতপুর ইউনিয়নের বড়ঘোলা গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে। হৃদয় ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। 

এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার খেদমতপুর ইউনিয়নের বড় মজিদপুর ঘেগারতল গ্রামের ঘরের ভেতর থেকে ষাটোর্ধ্ব আকলিমা বেগমের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

আকলিমা বেগম ওই এলাকার মো. আব্দুল হাকিম মিয়ার স্ত্রী।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, একই বাড়ির আলাদা ঘরে থাকতেন আব্দুল হাকিম ও আকলিমা বেগম। শনিবার ভোরের দিকে আব্দুল হাকিম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের বাইরে এলে স্ত্রীর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। 

তিনি ঘরে প্রবেশ করে গলাকাটা অবস্থায় স্ত্রীর নিথর দেহ খাটের ওপরে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। এতে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

ওই দিনই অজ্ঞাতনামা আসামি করে নিহতের ভাই রায়পুর ইউপির নখারপাড়ার ওবায়দুল হত্যা মামলা করেন।

নিহতের দুই ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও শাহিন বলেন, ৮/১০ বছর আগে বড় মজিদপুরে পৃথক বাড়ি নির্মাণ করে বাবা-মা সেখানে বসবাস করেন। তারা দুই ভাই বাস্তুভিটা বড়ঘোলায় বসবাস করি। 

ঘটনার পর পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে জানিয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “এ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা প্রথমে কোনো ক্লু খুঁজে বের করতে পারেনি। তবে ঘটনার দিন সকালে নিহতের নাতি অনিক হাসান হৃদয় সটকে পড়ায় তাকে ঘিরে সন্দেহ বাড়ে। 

উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর থেকে অনিক হাসান হৃদয়কে আটক করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাদিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি সোমবার সকালে বড় মজিদপুরের রফিকুলের পরিত্যক্ত রাইস মিল থেকে উদ্ধার করা হয়।

তার স্বীকারোক্তির বরাতে পীরগঞ্জ থানা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “আসামি হৃদয় শুক্রবার রাত ১টার দিকে ঢাকা থেকে হানিফ পরিবহনের বাসে পীরগঞ্জ আসে। 

“পথে সে দাদা-দাদির গ্রাম খেজমতপুরে নেমে পড়ে। পরে দাদি আকলিমার সঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে, তার ঘরে বসে খোশগল্প করছিল। এক পর্যায়ে হৃদয় তার দাদির কাছে ১০ হাজার টাকা চায়। 

কিন্তু তার অনলাইন জুয়ায় আসক্তির কথা জেনে দাদি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হয়ে দাদিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় সে।

ওসি আরও বলেন, হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার হৃদয়।