Published : 03 Sep 2026, 06:51 PM
ভোলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ।
এ সময় তিনি বলেন, সাংবাদিকরা স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে সংবাদ প্রকাশ করবেন-এটাই তিনি চান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে এ দায়িত্ব দেবেন-এটা তিনি নিজেও আগে জানতেন না।
তিনি বলেন, “গণমাধ্যম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সাংবাদিকরা সরকারের ভালো কাজগুলো যেমন তুলে ধরবেন, তেমনি সরকারের ভুলত্রুটি ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনাও করবেন। সেই সমালোচনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে হবে।”
মন্ত্রী আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কখনো গণমাধ্যমের ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না।
অতীতে সাংবাদিকদের হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে আন্দালিব পার্থ বলেন, “গত ১৭ বছরে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ ও সংবাদ প্রচারের কারণে অনেক সংবাদকর্মী মামলাসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন।
“সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে বের করে এনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় বর্তমান সরকার।”
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “শুধু নীতিমালা করে মানুষকে ভালো করা যায় না, হয়তো নীতিমালা দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তবে সাংবাদিকদের নিজেদের নৈতিক জায়গা থেকেই বুঝতে হবে যেন কোনো ব্যক্তির রেপুটেশন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”
পাশাপাশি কাউকে অতিরিক্ত প্রশংসা করা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
রাজনীতিবিদদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহনশীলতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে সাইবার বুলিং উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মানুষ এখন কোনো সত্য সংবাদ দেখলে সেটিও ফেক নিউজ কি-না, তা যাচাই করার চেষ্টা করে।”
গত দুই-তিন বছরে বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত শব্দচয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করছি এবং মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন এসেছে।”
সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব পার্থ আরও বলেন, “আপনারা আমাদের সমালোচনা করবেন, আমাদের কাজের কোথায় ত্রুটি রয়েছে তা তুলে ধরবেন। ভোলায় সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন কাজগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কি-না, তা আমাদের জানাবেন।
“আপনাদের সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্য হতে হবে আমাদের সাহায্য করা, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে যেন সংবাদ পরিবেশিত না হয়।”
ভোলা জেলার বর্তমান অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “যেভাবে তরুণ সমাজ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে, তা রোধে প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।”
এছাড়া মাদক নির্মূলে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কার্যকর কমিটি গঠনের ওপরও জোর দেন তিনি। সভায় ভোলার সার্বিক উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।
ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল হক অনুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান ও পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, ভোলা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলমসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।