Published : 18 Aug 2025, 09:45 PM
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাঁওতালদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
রাজাহার ইউনিয়নের বিরাট ভট্ট গ্রামের শুক্রবারের এ ঘটনায় রোববার গভীর রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম।
থানায় অভিযোগটি করেছেন হামলায় আহত শ্যামবালা হেমব্রম (৪৫)।
অভিযোগে তিনি বলেন, শুক্রবার সাঁওতালরা তাদের একটি জমিতে ধানের চারা রোপন করতে গেলে রফিকুল চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীরা তাদের ওপর হামলা করে।
এতে তিনি, তার ছেলে বিশ্বনাথ সরেন (২৫) ও নাতি জয়ন্ত হাসদা (১৯) আহত হয়। তাদের মধ্যে বিশ্বনাথ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং তিনি ও তার নাতি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও বলেন, “রফিকুল চেয়ারম্যানের বাবা হেকিম মণ্ডল ও তার ছেলেরা জাল দলিল করে আমার বাবা হোপনা হেমব্রম ও তার বড় ভাই নদো হেমব্রমের প্রায় ৩ একর জমি দখল করে নেয়। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে বিগত ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিলের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
“এরপর ওই জমি আমরা একাধিকবার দখল নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ওই জমিতে ধান চাষ করতে গেলে আমাদের সেচ বন্ধ করে দেওয়া হয়।”
এই সাঁওতাল নারী জানান, “পরে গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আমরা ওই জমিতে ধানের চারা রোপণ শুরু করি। এ সময় রফিকুল চেয়ারম্যান, তার ভাই শফিকুল ও মেজবাউল ইসলাম এবং তাদের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে আমাদের মারপিট করে এবং ধান চাষে বাধা দেয়।”
এ বিষয়ে রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই জমি আমার বাবা হাকিম মন্ডল প্রায় ৩৫ বছর আগে হোপনা হেমব্রমের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। সেই থেকে আমরা চাষাবাদ করে আসছি। জমির মালিকানার সব বৈধ কাগজপত্র আমাদের আছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুক্রবার সাঁওতালরা আমাদের ওই জমিতে ধান রোপণ করতে আসে। খবর পেয়ে আমরা তাদের বাধা দিই। এ সময় আমার ছোট ভাই শফিকুল ইসলাম মাথায় আঘাত পান। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”
গোবিন্দগঞ্জ বাগদা-ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, “রাজাবিরাট আদিবাসী গ্রামের সাঁওতালদের প্রায় ২৫০ বিঘা জমি স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় বাঙালিরা। সেই জমিগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি।”
এর আগে রফিকুল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি উপজেলার বিরাট আদিবাসী পল্লীর বাসিন্দা ফিলিমোনা হাসদাকে (৫৫) মারধর ও বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। এবং উপজেলা বিএনপি তাকে দলীয় সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করে। তবে ওই মামলায় তিনি এখন জামিনে আছেন।
ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, সাঁওতালদের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।