রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা: অনেক প্রশ্নের অবসান চান নাগরিকরা
শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করেছে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরাও।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে করেছেন নাগরিকরা।
এ সময় তারা, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনকে নিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তারও অবসান দাবি করেন।
সোমবার বিকালে নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির ডাকে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এই দাবি করেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
এ ছড়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে শহরে বিক্ষোভ করেছে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরাও।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। শুধু গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নয়, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
মানববন্ধনে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দিয়েছে তা নিয়ে নগরীর মানুষ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। একটা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চারজনকে হত্যা করা হয়েছে, কোনো আর্তনাদ-চিৎকার কোনো প্রতিবেশী শুনতে পায়নি এটি কিন্তু আসলে আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।
“চারটি লাশ দুর্গন্ধ ছড়াল, সেটি কি আশপাশের কারো নাকে লাগেনি? আমরা এটি প্রশ্ন রাখতে চাই। বাড়িতে সেদিন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। তাহলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল কে? পাশের নিরাপদ নির্মাণাধীন তিনতলা বাড়ি রেখে যে বাড়িতে লোকজন বসবাস করে সেখানে দুজন ইয়াবা সেবন করতে আসবে? খুনের পর আসামিদের যে স্বাভাবিক আচরণের কথা বলা হয়েছে, তা নিয়েও মানুষের মধ্যে প্রশ্ন আছে। ইয়াবা সেবনের পর তারা কি সুস্থ মাথায় এই কাজগুলি করতে পারে?”
তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যে, পুরো ব্যাপারটি নিয়ে একটা ধূম্রজাল তৈরি হয়েছে এবং জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমরা চাই যে, সেই প্রশ্নের অবসান হোক।”
পলাশ কান্তি নাগ বলেন, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এক বছর থেকে বাড়ির নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে নানাভাবে হুমকি-ধামকির শিকার হয়েছেন। তাহলে কারা তাকে হুমকি দিল? কোন দাদারা হুমকি দিল? কোন বড় ভাইরা হুমকি দিল? আমরা তো এটি জানতে চাই।”
রংপুরে জাপানি নাগরিক হত্যা, অ্যাডভোকেট রীতেশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা হত্যার ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্তে যে দক্ষতার যে পরিচয় দিয়েছে, শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের হত্যার ক্ষেত্রে পুলিশ সেই দক্ষতার পরিচয় দেবে এমনটাই আশা করেন পলাশ কান্তি নাগ।
অন্য বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এতে বক্তব্য দেন রংপুর মহানগর সাগরিক কমিটির সদস্য বিজয় প্রসাদ তপু, বিথী রানী দাস, অধ্যাপক আব্দুস সোবাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, শিক্ষক মওদুদ আহমেদ, শিক্ষক আশিকুল ইসলাম, আমিনুদ্দিন বিএসসি, মশিউর রহমান।
শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এরপর রোববার ভোরে মাছুয়াপাড়া এলাকার মুগ্ধ দাস (২৩) ও তার মামাতো ভাইয়ের ছেলে সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটকের কথা জানায় পুলিশ।
সিদ্ধার্থ নগরীর পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। আর মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানের কর্মী। রোববার তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
আরও পড়ুন:
