ফরিদপুরে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষ, আহত ২৫
এক পক্ষের অভিযোগ ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় ছেলেকে কুপিয়ে আহত করার জেরে এ সংঘর্ষ হয়েছে। তবে তা অস্বীকার করেছে অপর পক্ষ।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
বুধবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শাহমুল্লুকদী গ্রামে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয় বলে জানিয়েছেন ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন।
স্থানীয়রা জানান, শাহমুল্লুকদীর গ্রামের টুকু মোল্লা ও শাফি মোল্লার লোকজনের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার বিকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খালের দুই পাড়ে জড়ো হয়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে।
রাত পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।
টুকু মোল্লার অভিযোগ- ইয়াবা বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় তার ছেলেকে কুপিয়ে আহত করার জেরে এই সংঘর্ষ হয়েছে।
তিনি বলেন, “শাফি মোল্লার দলের বেলায়েত মুন্সী ডলার দেখিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। তার ছেলে আরিফ মুন্সি ইয়াবা বিক্রি করে। আমার ছেলে মনি মোল্লা ইয়াবা বিক্রি করতে বাধা দেয়।
“পরে শাফি মোল্লার লোকজন ঈদের দিন রাতে আমার ছেলেকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছে। সে ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।”
তিনি আরও বলেন, “বুধবার তারা আমাদের উপরে আবারো হামলা চালায়। পরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে মারামারি হয়। এ ঘটনায় আমাদের ১০ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন।”
তবে মাদক বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে শাফি মোল্লা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে টুকু মোল্লার সঙ্গে আমাদের বিরোধ চলছিল। তারা মাঝে-মধ্যেই আমাদের লোকজনকে মারধর করে। আজকেও (বুধবার) তারা আমাদের উপরে হামলা চালিয়েছে।পরে আমরাও পাল্টা হামলা চালিয়েছি।”
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের ভাঙ্গা ও ফরিদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। এলাকায় পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।
“তবে এ ঘটনায় কোনো পক্ষ এখনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিব।”
