Published : 13 Aug 2026, 06:03 PM
রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় নিজ গ্যারেজে ৬৫ বছর বয়সী গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানকে হত্যার ঘটনায় পরিচিত কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে ভাঙা আলমারি ও ড্রয়ার এবং বাইরে থেকে তালাবদ্ধ শাটার পাওয়ায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি লুটপাটের উদ্দেশ্যও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর তাজহাট আনসারীর মোড় এলাকার একটি রিকশার গ্যারেজ থেকে আব্দুর রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় রিকশার গ্যারেজ পরিচালনা করতেন। গ্যারেজেই থাকতেন তিনি। প্রতিদিন রাতের মতো ঘটনাদিনও শাটার বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গ্যারেজের শাটারে বাইরে থেকে তালা ঝুলতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ডাকাডাকি করেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে শাটারের একটি ফুটো দিয়ে ভেতরে উঁকি দেন। তখন মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে তালা কেটে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্যারেজের ভেতরের একটি আলমারি ও ড্রয়ার ভাঙা। বিশেষ করে টাকা-পয়সা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার অংশটিই ভাঙচুর করা হয়েছে।
তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আব্দুর রহমানের মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “আলমারির যে অংশে টাকা-পয়সা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখা হতো, সেটি ভাঙা পাওয়া গেছে। একটি ড্রয়ারও ভাঙা। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। নিহতের পরিচিত কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্যারেজের একটি আলমারি ও একটি ড্রয়ার ভাঙা। বিশেষ করে টাকা-পয়সা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রাখার অংশে ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে।
নিহতের বড় ছেলে নুরুন্নবী বলেন, “আমার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি হার্টের রোগী ছিলেন। মা মারা যাওয়ার পর থেকে একাই গ্যারেজে থাকতেন ও সেটি পরিচালনা করতেন। কয়েকদিন আগে তিনি সর্বশেষ বিয়ে করেছিলেন। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় এক লাখ টাকা দিয়ে সেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করেন কি –না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমরা তো কাউকে দেখিনি। তাই কারও নাম বলতে পারছি না। আমি শুধু আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।"
নিহতের ছোট ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই। আমি হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চাই।”
তিনি বলেন, "কয়েকদিন আগে বাবার সর্বশেষ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমার বাবা ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিজের কাছেই রাখতেন, ব্যাংকে রাখতেন না। টাকার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আমার ধারণা।"
গ্যারেজের পাশের সেলুন মালিক নাদিম বলেন, রাতে গ্যারেজ বন্ধ করার পর কেউ ডাকাডাকি করলেও আব্দুর রহমান সাধারণত শাটার খুলতেন না। রিকশার মালিকরা এলেও তিনি ভেতর থেকেই কথা বলতেন। তবে হত্যার রাতে কোনো ধরনের চিৎকার বা শব্দ তিনি শুনতে পাননি।
তার ভাষ্য, “গ্যারেজের পাশে বাড়ি হওয়া সত্ত্বেও ওই রাতে কোনো শব্দ শুনিনি। মনে হচ্ছে, যিনি এসেছিলেন তিনি পরিচিত ছিলেন। তাই কোনো গোলমাল হয়নি।”
গ্যারেজসংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা হিরু মিয়া বলছিলেন, রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় তিনি গ্যারেজের শাটার নামানো অবস্থায় দেখেছেন। সকালে চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে রক্ত দেখতে পান। পরে শাটারের ফাঁক দিয়ে আব্দুর রহমানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে তা গ্রহণ করা হবে বলে জানান ওসি রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলন, এখন পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। চুরি, পারিবারিক বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে আলামত বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।