Published : 15 May 2026, 10:27 AM
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯ মাস বয়সী আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে শুক্রবার সকালে জানিয়েছেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার।
হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, মারা যাওয়া শিশুটি জেলার তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। গত ১২ মে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুটিকে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশু মৃত্যুর পাশাপাশি নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৩ শিশু। এ সময় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়েছে ২০ শিশু। বর্তমানে ভর্তি আছে ১০৪ শিশু।
এছাড়া গত ১৭ মার্চ থেকে ১ হাজার ৩৪০ জন হাম বা হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ২০৩ জন।এ সময়ে মোট ৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬৪ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০৪ জন রোগী ভর্তি থাকায় গাদাগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান স্বজনরা।
হামে আক্রান্ত তিন সন্তানকে নিয়ে রোববার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন রাজিয়া বেগম। তিনি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
রাজিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, “হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে মূলত হামের তেমন কোনো চিকিৎসা সেবা নেই। আমার ১৩ বছর, দুই বছর এবং ৪ মাস বয়সী তিন সন্তানকে ভর্তি করালেও চিকিৎসকরা বলছেন, বাড়িতে নিয়ে সেবা করলে মাস দুয়েক পরে এমনিতেই ভালো হয়ে যাবে।
“তাহলে হাসপাতালে আসার কী দরকার ছিল। প্রতিদিন এই ওয়ার্ডে হাম আক্রান্ত শিশুরা মারা যাচ্ছে। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে আইসিইউ ব্যবস্থা নেই।“
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই ডাক্তাররা দেখার কথা। কিন্তু তাদের পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্বজনরা তো চিকিৎসকদের সাথে কোনো কথাই বলতে পারে না। রয়েছে ওষুধের সংকট। পাশাপাশি বাথরুমের একেবারেই খারাপ অবস্থা।”
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. মাওলা সুজন বলেন, “স্বজনদের অভিযোগ থাকবেই, তবে আমরা সামর্থ্যের মধ্যে সবটুকু করার চেষ্টা করছি। সীমিত বরাদ্দের মধ্যে ওষুধসহ সবকিছুই করা হচ্ছে। ”
“তবে এই সময়ে আইসিইউ খুব বেশি প্রয়োজন ছিল। তাহলে শিশুদের জীবন রক্ষায় আরেকটু চেষ্টা করা যেতো”, বলেন তিনি।