১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কক্সবাজারে ফুটবল খেলার দর্শকদের হামলায় স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্র

আয়োজকদের অব্যবস্থাপনার জন্য এমন ঘটনা ঘটে বলে দাবি দর্শকদের।

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Sep 2025, 09:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:17 PM

কক্সবাজারে ফুটবল খেলা ঘিরে উত্তেজিত দর্শকদের হামলা-ভাঙচুরে  স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে শহরের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে দুই দফায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান জানান।

এ সময় পুরো স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর করা হয় ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্সসহ পুরো স্টেডিয়াম ভবন, উপড়ে ফেলা হয় মাঠের গোল পোস্টও। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে। 

এ সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার ইউএনও নিলুফার ইয়াসমিন চৌধুরী, সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

ওসি বলেন, জেলা প্রশাসক গোল্ড কাপের ফাইনাল খেলা রামু ও টেকনাফ উপজেলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। 

তবে খেলা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। 

স্থানীয়রা বলছেন, দুপুর ২টার মধ্যেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত দর্শক প্রবেশ করেন গ্যালারিতে। একপর্যায়ে উত্তেজিত দর্শকরা ফটক ভেঙে মূল মাঠে ঢুকে পড়েন। 

মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

তখন সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে হাজির হন। মাঠ থেকে বের করে দেওয়া দর্শকরা বাইরে থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

এতে বেলা গড়ালে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খেলা স্থগিত করে আয়োজক কমিটি। 

খেলা স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মাঠে প্রবেশ করে হাজারো দর্শক; শুরু করে ব্যাপক ভাঙচুর।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মোহাম্মদ হুসাইন বলেন, “স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবকিছু তছনছ করা হয়েছে।”  

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা ৩০ জনের মত আহতকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ইলিয়াস খান বলেন, “আমাদের (পুলিশের) অনেকেই আহত আছেন। বাকিটা পরে বলা যাবে।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান বলেন, “গ্যালারিতে ধারণ ক্ষমতার বেশি দর্শক উপস্থিত হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।”  

দর্শকদের অভিযোগ, তারা আগেই টিকিট কিনেছেন। টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারিত হলেও অধিকাংশকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেও তারা মাঠে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।

টেকনাফ থেকে আসা সাব্বির নামের এক দর্শক বলেন, “আমি ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছি। গেইটে দাঁড়িয়ে ছিলাম ঘণ্টাখানেক। কেউ ঢুকতে দিচ্ছিল না। পরে দেখি, সবাই একসাথে গেইট ঠেলে ঢুকে গেল।”

খেলা দেখতে আসা কামাল উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, “বাচ্চা নিয়ে এসেছিলাম খেলা দেখতে। এই ভিড় আর ধাক্কাধাক্কিতে বাচ্চা সামলানো দায় হয়ে গিয়েছিল। আয়োজকদের ঠিকমত প্রস্তুতি ছিল না।"