নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণ: ভোরে বাবা, দুপুরে প্রাণ যায় মেয়ের
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে এবার বাবা ও মেয়ের প্রাণ গেল। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চারজনে।
বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে বাবা এবং দুপুরে মেয়ে মারা যায় বলে জানান জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান।
তিনি বলেন, দুপুর ১টার দিকে চার বছর বয়সি জান্নাত মারা যান। আর ভোরে মারা যান শিশুটির বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. হাসান (৪০)।
যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৪৪ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান শাওন বিন রহমান।
এর আগে ২৩ অগাস্ট ভোররাতে উপজেলার পাইনাদী পূর্বপাড়া এলাকার একটি টিনশেডের বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাশাপাশি দুটি ঘরের অন্তত নয়জন দগ্ধ হন।
পরদিন ভোরে হাসানের একমাস বয়সি সন্তান ইমাম উদ্দিন মারা যায় এবং সোমবার বিকালে মারা যান হাসানের শাশুড়ি তাহেরা আক্তার (৫০)। তাদেরও শরীরের ৪০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হয়ে শ্বাসনালি পুড়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
অগ্নিদগ্ধ হাসানের স্ত্রী সালমা বেগম (৩২), মেয়ে মুনতাহা (৮), সালমার বোন আসমা বেগম (৩৫), আসমার মেয়ে তৃষা (১৭) এবং ছেলে আরাফাত (১৫) জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।
আহতদের মধ্যে সালমার শরীরের ৪৮ শতাংশ, মুনতাহার ৩৭ শতাংশ, আসমার ৪৮ শতাংশ, তৃষার ৫৩ শতাংশ ও আরাফাতের ১৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।
শর্ট সার্কিট থেকে ঘরে থাকা রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে আগুনের ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানালেও এলাকাবাসীর দাবি তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমা গ্যাস বিস্ফোরণের প্রধান কারণ।
