Published : 06 Oct 2023, 11:08 PM
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা নদীতে বালুবাহী একটি নৌযানের ধাক্কায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে একই পরিবারের ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন৷
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার চর কিশোরগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে বলে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হাবিবুল্লাহ জানান৷
নিখোঁজরা হলেন- গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুলদী গ্রামের মফিজ উদ্দিনের স্ত্রী সুমনা আক্তার (৩৫), দুই মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৬) ও জান্নাতুল ফেরদাউস (৩), মফিজ উদ্দিনের বড় ভাই বোরহান উদ্দিন কাজীর মেয়ে জান্নাতুল সাবিহা (৮), রংপুর থেকে বেড়াতে আসা মফিজের ভায়রা সাব্বির (৩৬) এবং তার ছেলে ইমাদ (৭)।
রাতের অন্ধকারে নদী পাড়ে ভীড় করেছেন নিখোঁজদের উদ্বিগ্ন স্বজনরা। তারা স্বজনদের জন্য আহাজারি করছেন।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু জাফর রিপন এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসলাম খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ডুবুরি দলের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে রয়েছে।
সাঁতরে তীরে উঠা যাত্রীদের বরাতে পরিদর্শক হাবিবুল্লাহ বলেন, “মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে ১১ জন যাত্রী নিয়ে চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় আসছিল ট্রলারটি৷ বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে গেলে পাঁচজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকিরা নিখোঁজ হয়৷”
ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রী মো. রিয়াদ (১৮) বলেন, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনরা নদীতে বেড়াতে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটি ভাড়া করেছিলেন৷ বাল্কহেডের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে গেলে তিনি সাঁতরে তীরে ওঠেন৷
মফিজ উদ্দিনের বোন নিলুফা বেগম ট্রলার ডুবির খবর পেয়ে নদীতীরে এসেছেন। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতে বাল্কহেট চলাচল করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
গজারিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ট্রলার চালক দৌলতপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, “বাল্কহেড হঠাৎ করেই ট্রলারটিতে ধাক্কা দেয়। সঙ্গে সঙ্গে সেটি ডুবে যায়।”