মুন্সীগঞ্জে সেপটিক ট্যাংকে নেমে ৩ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের নেমে ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
রোববার বিকালে উপজেলা শহরের খালইস্টের আফতাব প্লাজা গলির সিঙ্গাপুর প্রবাসী সবুজ কাজীর নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফিরোজ কবির।
নিহতরা হলেন- শাহীন ইসলাম (২২), ফিরোজ মিয়া (১৯) ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৪৮)। শাহীন পঞ্চগড়ের মো. মোখলেছের ছেলে, ফিরোজ গাইবান্ধা সদর উপজেলার ধানগড়ার জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং ইব্রাহিম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার তেলিছাটা এলাকার বাসিন্দা।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম বলেন, “ভূগর্ভস্থ সেপটিক ট্যাংকে একে একে তিন শ্রমিক নেমে আর উপরে উঠতে পারেননি। জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্যাংকের পানি সরিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় কৃত্রিম অক্সিজেন নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
“কিন্তু ততক্ষণে আর কেউ বেঁচে ছিলেন না। একজনের উপর আরেকজন পড়েছিলেন। ট্যাংকের ভেতরে কার্বনডাই অক্সাইড জমে ছিল।”
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে পানিতে কিছু রাখা ছিল। প্রথমে একজন শ্রমিক ট্যাংকের নিচে নামেন। তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় সহযোগী আরেক শ্রমিক নামেন। তিনিও ফিরে না আসায় পাশের আরেক শ্রমিক তাদের উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির বলেন, ট্যাংকের ভেতর জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকটি ১০ ফুট গভীর। সেপটিক ট্যাংকের মুখ খুলে রাখার অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর ভেতরে প্রবেশের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।
