Published : 01 Sep 2026, 06:23 PM
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যৌতুক পেতে স্ত্রীকে নিয়মিত মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে মায়ের জিম্মায় দিয়েছে।
মায়ের করা লিখিত অভিযোগের পর সোমবার বিকালে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই কামরুল ইসলাম।
প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০২৫ সালের ২৬ মে গোপালগঞ্জ আদালতের নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেদায়েত তালুকদারের ছেলে সাহেদ তালুকদারের সঙ্গে লেবুতলা গ্রামের মৃত আনসার শেখের মেয়ে বর্ণা খানমের বিয়ে হয়।
সাহেদ তালুকদার (২৩) টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ড. এমদাদুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি।
সাহেদের শ্বাশুড়ি জেসমিন বেগমের অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করে যৌতুক চাইত সাহেদ। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় তা দিয়েছেনও শ্বাশুড়ি।
কিন্তু এক পর্যায়ে যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় সাহেদ ও তার পরিবারের লোকজন বর্ণাকে মারপিট শুরু করে। পরে জেসমিন বেগম তার বড় মেয়ে কল্পনা বেগমকে নিয়ে শনিবার বর্ণাকে সাহেদের বাড়ি থেকে আনতে যান। কিন্তু তাদের সামনেই বর্ণাকে মারধর করে আটকে রাখে সাহেদ।
পরে সাহেদ ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন জেসমিন বেগম।
ভুক্তভোগী বর্না খানম বলেন, “সাহেদ নিয়মিত নেশা করে আমাকে মারধর করে। আর তার মাও এসব কাজে সায় দেয়। কোন কাজ না করে শুধু টাকা চায়, আর না দিলে বিএনপির দলীয় পদের পাওয়ার দেখায়। আমি ওর সঙ্গে সংসার করতে চাই না।”
জেসমিন বেগম বলেন, “ওরা নিজেরা কোর্ট ম্যারেজ করেছিল। বিয়ের পর থেকেই জামাই কথায় কথায় টাকা দাবি করে। আগে অনেক টাকা-পয়সা দিয়েছি, কিন্তু এখন আর দিতে পারি না। টাকা না পেলেই আমার মেয়েকে মারধর করে।
“মেয়েকে আনতে গেলে আমাকেও গালাগালি করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এসব কারণে যদি আমার মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় তাহলে সে দায় কে নেবে? আমি আর ওর কাছে মেয়ে দেব না।”
সাহেদ তালুকদার বলেন, “আমি কখনো শ্বাশুড়ির কাছে যৌতুক দাবি করিনি। আর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় কখনো কখনো বেশি কথা বলেছি। তারা আমার সংসার ভাঙার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
“পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে তার মায়ের জিম্মায় দিয়েছে। আইনি ও সামাজিকভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করব।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। পরে জানাতে পারব।”
টুঙ্গিপাড়া থানার এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বর্ণাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত করে ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।