১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘সেবা পেতে ভোগান্তি’, ময়মনসিংহ নির্বাচন কার্যালয়ে দুদকের অভিযান

এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দুদক কর্মকর্তাদের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

‘সেবা পেতে ভোগান্তি’, ময়মনসিংহ নির্বাচন কার্যালয়ে দুদকের অভিযান
ময়মনসিংহের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে দুদকের সামনে নানা হয়রানির অভিযোগ করেন সেবাপ্রার্থীরা।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jun 2025, 06:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:15 PM

সেবা পেতে ভোগান্তি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ময়মনসিংহে আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দুদক কর্মকর্তাদের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

সোমবার বেলা ১২টার দিকে ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ের দুদকের সহকারী পরিচালক মো. বুলু মিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ সময় জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের কক্ষে দুদকের সামনে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন সেবাপ্রার্থীরা। যদিও নির্বাচন কর্মকর্তার দাবি তাদের কার্যালয়ে কোনো দুর্নীতি হয়নি। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

সেবাপ্রার্থী মো. সানি বলেন, “আমার বড় ভাই ভোটার হবে তাই সব কাগজপত্র জমা দেই। সকাল ১০টায় নির্বাচন অফিসে আসার কথা ছিল। কিন্তু ঢাকা থেকে আসতে এক ঘণ্টা দেরি হওয়ায় তারা আবার নতুন করে তারিখ দিয়েছেন। এই ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

আরেক গ্রাহক লাবনী আক্তার বীথী বলেন, “আমার নানির এনআইডি কার্ডের নাম সংশোধন করার জন্য ছয় মাস ধরে ঘুরছি। কিন্তু তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন অফিসে আসলে তথ্য ঘাটতি রয়েছে বলে নতুন তারিখ দেয়। 

“সেই অনুযায়ী কাগজপত্র জমা দিলেও সংশোধন হবে কি-না তা বুঝতে পারছি না। এটা ইচ্ছে করলেই কর্মকর্তারা করে দিতে পারেন।”

নিজের এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে নির্বাচন অফিসে এসেছেন নূর মোহাম্মদ টুটুল। তিনি বলেন, “আমার এনআইডি কার্ডে আমার নামের জায়গায় ছোট ভাইয়ের নাম আসছে। সংশোধনের জন্য ২০২২ সালে আবেদন করেছি। 

“তারা আমাকে ঘুরাইতে ঘুরাইতে আজ বলেন, সেটা হবে। আমার এই পর্যন্ত তিনবার আবেদন করতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। হবে যেহেতু তাহলে এত ভোগান্তি কেন।”

নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবসময় শতভাগ সেবা নিশ্চিতের জন্য চেষ্টা করি। প্রতিদিন সকালে সবাইকে ব্রিফিং করে কাজ শুরু করি। তারপরেও যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে সেটা আমার অজান্তে।”

এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ থাকলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অনলাইন সেবায় কোনো কারচুপির সুযোগ নেই। তবে সব তথ্য নিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় বেশি লাগে।

দুদকের সহকারী পরিচালক বুলু মিয়া বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করছি। সরকারি দপ্তরে এসে মানুষের এত হয়রানি কোনোভাবেই কাম্য নয়।”

সেবাপ্রার্থীদের নির্বাচন কর্মকর্তার মুখোমুখি করে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান দুদকের এই কর্মকর্তা।