১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: পুড়ে যাওয়া মুখের অংশ দেখে রাইসাকে চেনেন বাবা

শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জানাজা শেষে বাজড়া শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা গোরস্থানে রাইসার লাশ দাফন করা হয়।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: পুড়ে যাওয়া মুখের অংশ দেখে রাইসাকে চেনেন বাবা
রাইসার লাশ ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়ায় পৌঁছালে শোকে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামটির বাতাস।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Jul 2025, 04:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:27 PM

ঢাকা উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাইসা মনি; বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৯ বছরের শিশুটির শরীরের ৮০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রিয় সন্তানকে চিনতে ভুল করেননি বাবা শাহাবুল শেখ। 

সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) শিশুটির মুখমণ্ডলের অংশবিশেষ দেখেই তাকে নিজের সন্তান হিসেবে দাবি করেন তিনি। ডিএনএ পরীক্ষাতেও তার সত্যতা মেলায় বৃহস্পতিবার রাত ১১টার মেয়ের লাশ বুঝে পান শোকার্ত এ বাবা। 

পরে শুক্রবার সকালে রাইসার লাশ নিয়ে নিজের গ্রাম ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজড়ায় পৌঁছান শাহাবুল। তখন শোকে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামটির আশপাশের বাতাস। 

গোপালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ওবায়দুর রহমান বলেন, “রাইসা মনির অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকার মানুষ শোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। তার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর হৃদয়-বিদারক দৃশ্যের তৈরি হয়। এমন কোনো মানুষ নেই যে মেয়েটির জন্য কেউ কাঁদেনি।”

এরপর সকাল সোয়া ৯টার দিকে বাজড়া দক্ষিণপাড়ার ঈদগাহ ময়দানে রাইসার জানাজা শেষে বাজড়া শামসুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। 

রাইসার চাচা ইমদাদুল শেখ বলেন, “এ দুর্ঘটনার পর থেকে রাইসা নিখোঁজ ছিল। আমরা তাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। বিভিন্ন স্থানে ও হাসপাতালে খোঁজখবরের পর ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে তার লাশের সন্ধান পাই। পুড়ে যাওয়া মুখমণ্ডল দেখে নিখোঁজ মেয়েকে শনাক্ত করেন তার বাবা।”

রাইসার বাবা শাহাবুল শেখ একটি গার্মেন্টস এক্সেসরিস প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। স্ত্রী মীম আক্তার, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ঢাকার উত্তরা নয়ানগরে ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।

সন্তানদের মধ্যে রাইসা মেজো। তার বড় বোন সিনথিয়াও (১৪) মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ভাই রাফসান (৪) সবার ছোট। 

সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় সু-শিক্ষিত করে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে তাদের ভর্তি করিয়েছিলেন শাহাবুল। কিন্তু বিমান দুর্ঘটনায় মেয়েকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তিনিসহ পুরো পরিবার। 

রাইসার জানাজায় উপস্থিত আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল বলেন, “বিমান দুর্ঘটনায় রাইসা মনি মারা যায়। এ শোক সইবার মত না। আমরা উপজেলা প্রশাসন তার পরিবারের পাশে আছি।” 

আরও পড়ুন

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিদগ্ধ ৫ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত

রাইসার ছেঁড়া খাতামৃত্যুর মিছিলে শিশুজবাবদিহিহীন রাষ্ট্র

মাইলস্টোনের বাতাসে এখনো পোড়া গন্ধছড়িয়ে ছিটিয়ে বই-খাতা-ব্যাগ