প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরে মায়ের জানাজায় যুবলীগ নেতা
যুবলীগ নেতা শাহিদ মাহমুদ নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিলেন নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা শাহিদ মাহমুদ।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের ডাকবাংলা ঈদগা মাঠে জানাজা ও দাফন শেষে তাকে আবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান।
সোমবার বিকালে রংপুরের একটি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত রোগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহিদ মাহমুদের মা রওশন আরা বেগম। ৯০ বছর বয়সি রওশন আরা বেগম শহরের থানাপাড়া মহল্লার প্রয়াত আজিম উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। মৃত্যুকালে তিনি পাঁচ ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে ও জানাজা অংশ নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে শাহিদের প্যারোলে মুক্তির জন্য আবেদন করা হয়। পরে তাকে ছয় ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, “বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মুক্তির আদেশ পাওয়ার পর রংপুর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে শাহিন মাহমুদকে নীলফামারীতে নিয়ে আসেন। থানা পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই তিনি তার মায়ের জানাজায় অংশ নেন।”
পরে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ পাহারায় তাকে আবার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় বলে জানান ওসি।
জানাজায় বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ অসংখ্য মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়। জানাজা শেষে তাকে ডাকবাংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, মানবিক বিবেচনা এবং প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ভিত্তিতে শাহিদ মাহমুদকে সাময়িকভাবে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
শাহিদ মাহমুদ ২০১৭ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ পাঁচটি মামলা হলে আত্মগোপনে চলে যান শাহিদ মাহমুদ।
২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠির একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে নীলফামারী আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তাকে নীলফামারী জেলা কারাগার থেকে রংপুর বিভাগীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
