উপজেলা চেয়ারম্যানের হুমকি, ‘পাড়াইয়া মাইরালামু’

আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক অমিত সাহার মধ্যে এই কথোপকথন হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 04:21 PM
Updated : 19 Sept 2022, 04:21 PM

শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের এক নেতাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। 

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া তিন মিনিট ষোল সেকেন্ডের একটি অডিওতে আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের গাজীপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিত সাহার মধ্যে কথোপকথন শোনা যায়।

অডিওতে হেলো সরকারকে বলতে শোনা যায়, “তুমি কি আমারে ভালো কইরা চিন? ভালো কইরা চিনলে আমার ছবিতে লাল কালি দিছ কেন? আমি একজন উপজেলার মর্যাদাশীল চেয়ারম্যান। তুমি আমার ছবির মধ্যে দাগ দিছ, এইটার জন্য তোমার কী হইবো তুমি জান?”

এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে অমিত সাহা ‘আমারে ভয় দেখাইয়েন না’ বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন হেলো সরকার।

তিনি আবার বলেন, “তোমারে কী ভয় দেখামু? তুমি জান, আমি পাড়াইয়া মানুষ মাইরালাই। আমি পোলাপান লাগাইয়া দিসি, একদম ধইরা লইয়া আইব, পাড়াইয়া মাইরালামু। ওই মালাউনের বাচ্চা, তোরে আমি কী ভয় দেখামু? তুই তো একটা তেলাপোকা।”

মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

হেলো সরকার নিজেকে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন বলে জানান অমিত সাহা।

এই বিষয়ে অমিত সাহা বলেন, “শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদ সংগঠনটির মধ্যে মতপার্থক্য আছে। হেলো সরকার নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি দাবি করেন। এইটা মিথ্যা কথা। তিনি সভাপতি না। এ নিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করি। তাতে উনি (হেলো সরকার) ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে আমাকে কল দিয়ে গালাগালি করেন, হুমকি দেন। এই ঘটনায় আমি গত রোববার গাজীপুরের বাসন থানায় একটি জিডিও করেছি।”

অমিত সাহার বাড়ি গাজীপুরের বাসন থানা এলাকায়।

মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার বলেন, “আমার ছবিতে লাল কালি দিয়ে ফেইসবুকে পোস্ট করায় রাগ হয়েছিল। একজন উপজেলা চেয়ারম্যানকে অপমান করায় কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে কথাগুলো বলেছি। আমি রাগের মাথায় এসব বলছি। ওই ছেলে এসব রেকর্ড করে রেখে তা ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিবে ভাবিনি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক