১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এক হাজার ৬১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাতটি ইউনিটের মধ্যে সবকটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

গ্যাস সংকটে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ
নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

নরসিংদী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jul 2025, 09:10 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:21 PM

গ্যাস সংকটের কারণে নরসিংদীর ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। 

ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক বৃহস্পতিবার বলেন, এক হাজার ৬১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সাতটি ইউনিটের মধ্যে সবকটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 

দুই বছর ধরেই এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সংকট চলছে জানিয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ১৩ জুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৪ নম্বর ইউনিট, ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৫ নম্বর ইউনিট এবং ১৪ জুন হতে ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন একেবারে বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, “সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাস বন্ধ করে দিয়েছে। বিকল্পভাবে গ্যাস সরবরাহ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। গ্যাস সরবরাহ করলেই পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হব।”

“তিনটি ইউনিট পুরোপুরি চালু করার মত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিটটি দুই মাস ধরে টারবাইনের রোটারের ব্লেডে সমস্যা দেখা দিলে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও তা মেরামতের শেষ পর্ষায়ে। গ্যাস সংযোগ চালু করলে এটাও উৎপাদনে চলে আসবে।”

বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১০ সালের জুন মাসে ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৬ নম্বর ইউনিটে আগুন লেগে এর টারবাইন পুড়ে যায়। সেই থেকে এই ইউনিটটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। 

অপরদিকে ১৯৬৭ সালে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি রাশিয়া টেকনোপ্রম এক্সপার্ট নির্মাণ কাজ শেষ করলে ১৯৭৪ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে যাত্রা শুরু করে। 

পরে ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি ১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উৎপাদনে আসে। এ দুটি ইউনিটে বার বার যান্ত্রিক সমস্যার কারণে আট বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

১ ও ২ নম্বর ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন করে অপর নতুন ইউনিট স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।