Published : 12 Jul 2025, 03:44 PM
আগে সংস্কার ও বিচার, পরে নির্বাচন ও গণতন্ত্র- এমন কথা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আর শুনতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, “আমরা জানি, এখানে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, ন্যায়বিচারের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু সংস্কার আর বিচার দুটোই চলমান প্রক্রিয়া। এটা এ রকম নয় যে, আমরা সংস্কার করে দিলাম সব সংস্কার হয়ে গেল। আমরা বিচার করে দিলাম সব ন্যায়বিচার হয়ে গেল।
“সংস্কার প্রক্রিয়া, বিচার প্রক্রিয়া- এরকম নয়। বিগত স্বৈরাচার সরকার বলত, আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র; সেটা ছিল ভূয়া কথা। কাজেই আজকে কারও মুখে এটা শুনতে চাই না যে, আগে সংস্কার হবে, আগে বিচার হবে, পরে গণতন্ত্র হবে, পরে নির্বাচন হবে। এই কথা আজকে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে শুনতে চাই না।”
শনিবার দুপুরে রাজশাহী ভূবন মোহন পার্কে দলের সদস্য ও নবায়ন ফরম বিতরণ অনুষ্ঠান উদ্বোধনকালে বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।
আব্দুল মঈন খান বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেশের মানুষ অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, মানুষ আপনাদের উপর আস্থা রেখেছে। যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের আকুতি গণতন্ত্রকে তাদের হাতে ফিরিয়ে দেন।”
তিনি বলেন, “১৬ বছর তরুণ সমাজ, প্রবীণ সমাজ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনও একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল। আজকে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, প্রবীণ সমাজ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।”
শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মঈন খান বলেন, “আমরা সুশৃঙ্খলাভাবে একটি পরিবেশ পরিস্থিতি বাংলাদেশে সৃষ্টি করব যাতে একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আমরা ১৭ বছর অপেক্ষা করেছি। আমরা আগামী কয়েক মাস ধৈর্য্য ধরব। আমরা নিয়মের বাইরে যাব না; আমরা শৃঙ্খলার বাইরে যাব না। আমরা জোর করে কারও উপর কিছু চাপিয়ে দেব না। কেন না সেটি গণতন্ত্র নয়, সেটি স্বৈরতন্ত্র।”
সদস্য ও নবায়ন ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা, সদস্যসচিব মামুন অর রশিদ।