Published : 08 Jun 2025, 03:40 PM
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ‘পরকীয়া’ জেনে যাওয়ায় এক রাজমিস্ত্রিকে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এক নারী ও তার প্রেমিককে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তারা এই তথ্য দিয়েছেন বলে জানান উল্লাপাড়া থানার ওসি রাকিবুল হাসান।
এর আগে শনিবার দুপুরে ও রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ভয়নগর গ্রামের কাবের হোসেনের ছেলে সুমন সরকার (৩৩) এবং একই এলাকার আলাউদ্দিনের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী আন্না খাতুন (৩০)।
এর আগে নিখোঁজের ছয় দিন পর বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাংক থেকে রাজমিস্ত্রি রাশেদুল ইসলাম রাসুর (৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দুই সন্তানের জনক রাসু একই এলাকার আবু সাঈদের ছেলে।
ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, রাসুর লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। এরপর পুলিশের একটি চৌকস দল মামলার তদন্ত শুরু করেন।
“ঈদের দিন দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে প্রথমে আন্না খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি ও তার প্রেমিক মিলে রাসুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।”
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত দেড়টার দিকে সুমনকেও গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ওসি রাকিবুল।
তিনি বলেন, “আন্না ও সুমন জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, রাসু তাদের পরকীয়া সম্পর্ক জেনে গিয়েছিল এবং অনৈতিক কাজের সময় দেখে ফেলে। পরে আন্নার সঙ্গে অনৈতিক কাজ করার জন্য চাপ দেয় রাসু। যে কারণে রাসুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আন্না ও সুমন।
“৩০ মে রাতে রাসুকে নিজেদের গোয়ালঘরে ডেকে নেয় আন্না। সেখানে আগে থেকেই সুমন অপেক্ষা করছিলেন। ঘোয়ালঘরে পৌঁছার পর আন্নার ওড়না দিয়ে রাসুর গলা চেপে ধরে সুমন। আর তাকে সহযোগিতা করেন আন্না।”
রাসু মারা যাওয়ার পর তাদের বাড়ির পাশের একটি সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেলে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি রাকিবুল।
তিনি বলেন, “রোববার বিকালে গ্রেপ্তারদের আদালতে তোলা হবে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজী হয়েছেন।”