Published : 02 Jan 2026, 05:28 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মনোনয়ন যাচাই-বাছাইকালে ঋণ খেলাপির দায়ে পূর্বনির্ধারিত প্রার্থী টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার পর বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
একই দিনে যশোর-৩ ও যশোর-৪ আসনে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ মোট ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
আশেক হাসান বলেন, “ঋণ খেলাপি থাকার কারণে টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়নি।”
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব ঢাকা ব্যাংকের ঋণ খেলাপি বলে জানান তিনি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, “আমাদের দল থেকে টিএস আইয়ুবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল এবং বিকল্পপ্রার্থী হিসেবে মতিয়ার ফারাজীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আমাদের আর একজন প্রার্থী সাবেরুল হক সাবু মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন।
“আমাদের বৃহস্পতিবার দল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, টিএস আইয়ুবের ব্যাংকের সমস্যার কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়ে যেতে পারে। সে জন্য মতিয়ার রহমান ফারাজীই হবেন দলীয় প্রার্থী।”
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন এবং বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-৪ আসন। শুরু থেকেই টিএস আইয়ুবের পাশাপাশি অভয়নগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মতিয়ার রহমান ফারাজী এ আসনে দলীয় মনোনয়নের দাবিদার ছিলেন।
এ আসনটিতে ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে টিএস আইয়ুবসহ বাতিল হয়েছে চারজনের।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আশেক হাসান বলেন, “অন্যদের মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র না থাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ এ এইচ সাবেরুল হক সাবুর এবং ভোটার নম্বর ভুল হওয়ায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
“এছাড়া এ আসনে টিএস আইয়ুবের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ফারহান সাজিদের মনোনয়নপত্রও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।”
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এম. নাজিমউদ্দিন-আল-আজাদের মনোনয়নপত্র অমীমাংসিত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি মনোনয়নপত্রে নিজেকে সাবেক সংসদ সদস্য উল্লেখ করলেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ সংযুক্ত না করেননি বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্র্তা।
এছাড়া এদিন যশোর-৩ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই হয়েছে। এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ছয়জন। যাচাই-বাছাইকালে দুই জনের অবৈধ ঘোষণা করা হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, এর মধ্যে দুটি ব্যাংকের ঋণ খেলাপির জামিনদার হওয়ায় বাতিল হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেনের। আর জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নিজামউদ্দিন অমিতেরটি বাতিল হয়েছে দলীয় মনোনয়নপত্র ও অঙ্গীকারনামার ফটোকপি জমা দেওয়ায়।
এ আসনের অপর চার প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াত ইসলামীর আব্দুল কাদের, জাতীয় পার্টির খবির গাজী ও সিপিবির রাশেদ খান।
শনিবার যশোরের বাকি দুইটি আসনের যাচাই-বাছাই হবে। এগুলো হচ্ছে মনিরামপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত যশোর-৫ ও কেশবপুর উপজেলা নিয়ে গঠন যশোর-৬ আসন।