২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

লঞ্চে ফেলে যাওয়া ব্যাগ নিতে গিয়ে মেঘনায় নিখোঁজ, এক দিন পর লাশ

এ ঘটনায় লঞ্চের মাস্টার ও গ্রিজারকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 08:16 PM

Updated : 26 Sep 2026, 08:16 PM

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় লঞ্চে ফেলে যাওয়া ব্যাগ নিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটের পাশের নদী থেকে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার লাশ উদ্ধার করে বলে জানান বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

নিহত রবিন (৩৬) শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার প্রেমতলা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে। তিনি নারায়ণগঞ্জে মা-বাবার সঙ্গে থাকতেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। প্রায় দুই মাস আগে তার চাকরি চলে যায়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী ‘মুকবিল-২’ লঞ্চটি ষাটনল ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। লঞ্চ থেকে নামার পর রবিনের মনে পড়ে, তার ব্যাগটি লঞ্চে রয়ে গেছে। ব্যাগ নিতে তিনি আবার লঞ্চে ওঠেন।

পরে লঞ্চটি পেছনের দিকে চলতে শুরু করলে রবিন ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি ভারসাম্য হারিয়ে মেঘনায় পড়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ঘটনার পর লঞ্চটি মোহনপুর লঞ্চঘাটে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ-পুলিশ লঞ্চটি আটক করে। এ ঘটনায় লঞ্চের মাস্টার মনির হোসেন (৫০) ও গ্রিজার মো. সুমনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়।

রবিনকে উদ্ধারে নৌ-পুলিশ, থানা-পুলিশ, স্থানীয় লোকজন এবং পরে বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে তার ব্যাগ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। ব্যাগে থাকা সিমকার্ড দিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার নম্বরটি রবিনের বলে নিশ্চিত করেন।

রবিনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবারই ষাটনল ঘাটে ছুটে আসেন নাসরিন। এক দিন অপেক্ষার পর শনিবার তার লাশ উদ্ধারের খবর পান তিনি।

বেলতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক বলেন, রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রবিনের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।