Published : 14 Jul 2024, 01:12 PM
সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের একদফা দাবিতে গণপদযাত্রা করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দিকে গণপদযাত্রা শুরু হয়। এক দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় দশ কিলোমিটার মিছিল করবেন শিক্ষার্থীরা।
বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছায়। পৌনে ২টার দিকে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদকে রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি গণস্বাক্ষর ফরম হস্তান্তর করেন।
পদযাত্রাটি শুরু হয়ে নগরীর সাহেববাজার প্রদক্ষিণ করে। রাজশাহী জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী এ গণপদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন।
গণপদযাত্রার মিছিলে কথা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, “পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ আমরা শান্তিপূর্ণ গণপদযাত্রা করছি। কোনো পক্ষ এতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা একত্রে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করব।"
পদযাত্রার সময় শিক্ষার্থীদের 'সারা বাংলায় খবর দে, কোথায় প্রথার কবর দে' 'বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যর ঠাঁই নাই', 'লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে, 'কোটা না মেধা, মেধা মেধা', 'কুমিল্লায় হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই', 'রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়', 'আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই' ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এর আগে শনিবার বিকালে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' এর সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, রোববার দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গণপদযাত্রা করে নিজ নিজ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি দেবেন।
সারাদেশে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্র ধর্মঘট অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেওয়া হয় সেখানে।
আন্দোলনকারীদের এক দফা দাবি হল-সকল গ্রেডে সকল প্রকার অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংশোধন করতে হবে৷
ওই ‘ন্যূনতম পর্যায়’ বলতে প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ অনগ্রসর লোকদের জন্য ৫ শতাংশ পর্যন্ত কোটা ‘গ্রহণযোগ্য’ মনে করছে তারা।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সব কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে সরকার। এক রিট আবেদনের রায়ে গত ৫ জুন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাই কোর্ট।
এরপর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে আন্দোলনে নামেন চাকরি প্রত্যাশীরা। প্রথম কয়েক দিন মিছিল, মানববন্ধনের মত কর্মসূচি থাকলেও পরে শুরু হয় তাদের অবরোধ কর্মসূচ; যার নাম তারা দিয়েছে ‘বাংলা ব্লকেড’।
আন্দোলনকারীরা গত রোববার ও সোমবার বিকালে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধ করে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। এরপর বুধবার সকাল-সন্ধ্যা সারা দেশে তাদের একই কর্মসূচি চলে।
এই আন্দোলনের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বুধবার কোটা নিয়ে স্থিতাবস্থা জারির আদেশ দেয়।

কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা দিয়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, কোটা নিয়ে এখন কোনো কথা বলা যাবে না। হাই কোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে আপিল বিভাগ আবার বিষয়টি শুনবে।
বৃহস্পতিবার সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশনে চাকরিতে সরাসরি নিয়োগে দুটি গ্রেডে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের মূল বা বাস্তবায়নের অংশ প্রকাশ করেছে হাই কোর্ট।
সেখানে বলা হয়েছে, এ রায় পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটার পাশাপাশি আগে থাকা অন্যান্য কোটাও বহাল করতে হবে। তবে সরকার চাইলে বিভিন্ন কোটার হার কমাতে, বাড়াতে বা পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতে পারবে।