নাফ নদীর পোল্ডার প্রকল্প ‘গলার কাঁটা’ হলেও শেষ করার তাগিদ এ্যানির
টেকনাফ সীমান্ত সড়ক ঘিরে স্থানীয় মানুষের কৃষি ও জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
নাফ নদীসংলগ্ন পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পটি ‘গলার কাঁটা’ হলেও নতুন করে কারিগরি সমীক্ষার মাধ্যমে কাজ শেষে করার তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেছেন, “পোল্ডার পুনর্বাসন প্রকল্পটি ‘গলার কাঁটা’ হলেও নতুন করে কারিগরি সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বারবার সংশোধন ও অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার পরও প্রকল্পটি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজে আসেনি।
“তাই জনস্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা, কৃষি, মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি নতুনভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় জনগণ ও প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব বলেন তিনি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়নাধীন ‘কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী পোল্ডারসমূহের (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি ও ৬৮) পুনর্বাসন প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় সংশোধনের আওতায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
পোল্ডার প্রকল্প নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, “জনগণের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে একটি প্রকল্প তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। ২০১৭, ২০২২ ও ২০২৫ সালে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপরও প্রকল্পটি জনগণের কাজে আসেনি।
“একটি প্রকল্প তিনবার সংশোধন ও বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী- সেটি প্রশ্নের বিষয়। এক কথায় বলতে গেলে প্রকল্পটি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে গেছে। প্রকল্পটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বসে থাকলে তো চলবে না। এটিও শেষ করতে হবে।”
“আমরা নির্বাচিত সরকার। জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। প্রকল্পটি নতুন করে সমীক্ষা করা হবে। এ কাজে বুয়েটের সহযোগিতা এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও কারিগরি সমীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”, যোগ করেন মন্ত্রী।
সীমান্ত সড়ককে ঘিরে স্থানীয় মানুষের কৃষি ও জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার কথা জানিয়ে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ, সবকিছু সমন্বয় করেই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে হবে।
সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে উখিয়া-টেকনাফের সীমান্ত সড়ক ও শাহ পরীর দ্বীপের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফের চলমান ৬১ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
তিনি বলেছেন, নানা জটিলতা ও প্রশ্ন থাকলেও জনস্বার্থে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে সীমান্তে নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়বে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে আর কোনো মানুষ আমরা চাই না। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যা যা প্রয়োজন, সরকার সে উদ্যোগ নেবে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সরকার কাজ করছে।”
এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজ নেন। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের উদ্দেশে টেকনাফ ত্যাগ করেন।
