১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লায় সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল ও সাবেক এমপি বাহারের বিরুদ্ধে মামলা

মুজিবুল হকের স্ত্রী ও বাহারের মেয়েকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লায় সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল ও সাবেক এমপি বাহারের বিরুদ্ধে মামলা
(বাঁ থেকে) মো. মুজিবুল হক ও আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার

কুমিল্লা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Oct 2024, 06:20 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:25 AM

কুমিল্লায় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব ও সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের নামে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকার কাজী মো. সোহেল নামে এ ব্যক্তি বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি করেন বলে শুক্রবার জানান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিবেন বিশ্বাস।

মামলার এজাহারে সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল ও এমপি বাহারসহ ১৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি আছেন আরও ৩০০ জন।  

এতে মুজিবুলের স্ত্রী হনুফা আক্তার রিক্তা ও বাহারের মেয়ে সাবেক সিটি মেয়র তাহসিন বাহার সূচনাকেও আসামি করা হয়েছে। 

মামলার এজাহারে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর ও সেনানিবাস এলাকায় হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।

মজিবুল হক মুজিব কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক রেলমন্ত্রী। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন। কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বাহাউদ্দিন বাহার মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে রাজনৈতিক বিরোধ। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর এখন পর্যন্ত এটিই প্রথম মামলা, যেখানে মুজিবুল হক ও বাহউদ্দিন বাহার একসঙ্গে আসামি হয়েছেন।

এ মামলায় এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক  আতিক উল্লাহ খোকন, বুড়িচংয়ের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন স্বপন, ব্রাহ্মণপাড়ার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়র অপি, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ নিয়াজ পাভেল, সিটি কাউন্সিলর হাবিবুর আল আমিন সাদীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক মন্ত্রী মুজিবুল হক, বাহাউদ্দিন বাহার ও সাবেক সিটি মেয়র সূচনার নির্দেশে তিন শতাধিক আসামি আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, দা, ছেনি নিয়ে বাদী ও অন্যান্য কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। আন্দোলকারীদের লক্ষ্য করে তারা বৃষ্টির মত হাত বোমা ও গুলি ছুড়ে। আসামিরা ছাত্রজনতাকে সেনানিবাস পর্যন্ত তাড়া করে নিয়ে যান। মামলার আসামি হাবিবুর আল-আমিন সাদী ও নাসির উদ্দীন লাইসেন্স করা পিস্তল ও শটগান নিয়ে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালান। 

এ সময় বাদীর মাথায় গুলি লাগলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তখন আসামি আহম্মেদ নিয়াজ পাভেল বাদীর বুকে ও মাথায় আঘাত করেন।

মামলার বাদী মো. সোহেল বলেন, “সেদিন পরিকল্পিতভাবে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি চালিয়েছে আসামিরা। আমি ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। পাশাপাশি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”