শরতের প্রকৃতির টান আর টানা ছুটিতে খাগড়াছড়িতে পর্যটক বেড়েছে

জেলার পর্যটন এলাকাগুলোর হোটেল-কটেজ এখন পর্যটকদের দখলে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Oct 2022, 05:41 PM
Updated : 7 Oct 2022, 05:41 PM

শরতের মুগ্ধ প্রকৃতির টান আর টানা ছুটিতে দেশের অন্যতম পর্যটন জেলা খাগড়াছড়িতে পর্যটক সমাগম বেড়েছে।

ছুটি কাটাতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে খাগড়াছড়ির পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। আলুটিলা রহস্যময় সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত ব্রিজ, তারেং রিছাং ঝর্ণা সবখানেই পর্যটকদের ভিড়। বুধবার থেকেই বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে।

জেলার পর্যটন এলাকাগুলোর হোটেল-কটেজ এখন পর্যটকদের দখলে। 

খাগড়াছড়ির অভিজাত হোটেলে গাইরিং-এর ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, “আমাদের হোটেলে কক্ষ সংখ্যা ৪৩টি। রোববার পর্যন্ত হোটেলের প্রতিটি কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। বিজয় দশমীর দিন থেকে এখানে পর্যটক সমাগম বেড়েছে। এখনও অনেক পর্যটক কক্ষের জন্য ফোন করছে; কিন্তু তাদের ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে।”

খাগড়াছড়ি আলুটিলা পর্যটন এলাকার তত্ত্বাবধায়ক কোকোনাথ ত্রিপুরা জানান, প্রতিদিন হাজারের বেশি পর্যটক আলুটিলা ভ্রমণ করছে। শুক্রবার এ সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে।

গাজীপুর থেকে খাগড়াছড়িতে বেড়াতে এসেছেন জার্মান প্রবাসী জনি ও জ্যোতি। তারা বলেন, টানা বন্ধে তারা বেড়াতে এসেছেন। খাগড়াছড়ি ঘুরে সাজেক যাবেন। শরতের এমন প্রকৃতি তাদের মুগ্ধ করেছে।

খাগড়াছড়ির পর্যটন মোটেলের ইউনিট ব্যবস্থাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক যাচ্ছেন। সাজেক ভ্রমণ শেষে তারা খাগড়াছড়ির ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে ঘুরছেন; আমাদের ভালো ব্যবসা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “টানা ছুটিতে এখানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটক ভ্রমণে আসেন। আমাদের হোটেলে ৩০টির বেশি কক্ষ, সবগুলোই বুকিং হয়ে গেছে। রোববার পর্যন্ত এমন ভিড় থাকবে।”

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক বলেন, “জেলা পুলিশ সারা বছর পর্যটকদের নিরাপত্তা দেয়। তবে যে সময় পর্যটকদের সমাগম বাড়ে তখন আমাদের বাড়তি মোবাইল টিম কাজ করে। একইসঙ্গে পর্যটকরা যাতায়াতে যেসব পথ বেশি ব্যবহার করেন সেই এলাকা সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যানবাহনের ক্রটিসহ পর্যটকরা যে কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত সমাধান করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।”

“পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে আরো ভালো,” বলেন পুলিশ সুপার।  

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক