বাহরাইনে প্রবাসীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ, মেয়াদ ৩ মাস
এ নিয়ম জারি করেছে দেশটির ‘লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি’ (এলএমআরএ)।
বাহরাইনে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের সাময়িকভাবে অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে কিংবা একই মালিকের একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অনুমতি সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে দেশটির শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘লেবার মার্কেট রেগুলেটরি অথরিটি’ (এলএমআরএ)।
সোমবার দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, শ্রম ও রাজনৈতিক বিষয়াবলি সম্পর্কিত মন্ত্রী এবং এলএমআরএ পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ বিন আবদুল হুসাইন খালাফ ২০০৮ সালের প্রবিধান সংশোধন করে ২০২৬ সালের নতুন রেজল্যুশন নম্বর-২ জারি করেছেন।
এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সুনির্দিষ্ট আইনি শর্তপূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশি কর্মী সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত অন্য নিয়োগকর্তার অধীনে সাময়িকভাবে কাজ করতে পারবেন। পাশাপাশি একই মালিকের অন্য কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কিংবা একই গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানের অধীনেও সাময়িক কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে নতুন এই নিয়ম কেবল বৈধভাবে বাহরাইনে অবস্থানরত কর্মীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে; এটি বিদেশ থেকে নতুন কর্মী আনার কোনো মাধ্যম নয়।
নতুন প্রবিধান অনুযায়ী, কোনো নিয়োগকর্তা যদি তার অধীনে থাকা কর্মীকে নিজেরই অন্য কোনো বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত (সিআর) প্রতিষ্ঠানে বা একই গ্রুপের অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে চান, তবে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির ‘বাহরাইনাইজেশন’ বা স্থানীয় নাগরিক নিয়োগের নির্ধারিত হার মূল প্রতিষ্ঠানের সমান বা তার বেশি হতে হবে।
অন্যদিকে, সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে সর্বোচ্চ ৩ মাসের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে এলএমআরএ-এর পূর্বানুমতির পাশাপাশি কর্মী এবং বর্তমান ও নতুন—উভয় নিয়োগকর্তার লিখিত সম্মতির প্রয়োজন হবে। যদি নতুন প্রতিষ্ঠানের বাহরাইনাইজেশন হার মূল প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কম হয়, তবে নতুন নিয়োগকর্তাকে সরকার নির্ধারিত অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করতে হবে।
সাময়িক কাজের ৩ মাস মেয়াদে কর্মীর যাবতীয় বেতন ও শ্রমসংক্রান্ত অধিকার রক্ষার দায়িত্ব উভয় নিয়োগকর্তার ওপর যৌথভাবে বর্তাবে। এলএমআরএ সিস্টেমে এই তথ্য নিবন্ধনের পরেই কেবল কাজ শুরু করা যাবে।
এদিকে নতুন এই নিয়ম প্রবাসী কর্মী ও ব্যবসায়ী সমাজে স্বস্তি ও উৎসাহ নিয়ে এসেছে। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের গাছুয়া ইউনিয়নের কেরালা রেস্টুরেন্টে কর্মরত প্রবাসী কর্মী মোজাম্মেল হক জানান, তার মালিকের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট থাকায় প্রায়ই তাকে এক শাখা থেকে অন্য শাখায় কাজ করতে হতো, যা নিয়ে এলএমআরএ চেকিংয়ের ভয় ছিল। এখন আইনি অনুমোদনের সুযোগ থাকায় সেই আতঙ্ক দূর হলো।
অন্যদিকে ফটিকছড়ির ভুজপুর ইউনিয়নের কোল্ড স্টোরেজ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাহরাইন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রবাসীবান্ধব’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে শ্রম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রবাসীরা এখন সম্পূর্ণ আইনি সুরক্ষার মধ্যে কাজ করার সুবিধা পাবেন।”
এলএমআরএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নীবরাস তালিব জানিয়েছেন যে শ্রমবাজারের প্রশাসনিক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং ব্যবসায়ে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩ মাসের এই সুনির্দিষ্ট আইনি সময়সীমা নিয়োগকর্তাদের সাময়িক শ্রম চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে এবং একইসঙ্গে বাজারে অবৈধভাবে কর্মী খাটানোর অনিয়ম দূর করবে। সরকার এই নমনীয় সুবিধা চালু করলেও কোনো কর্মী যাতে ইচ্ছা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া কাজ না করেন, সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উপযুক্ত প্রশাসনিক অনুমোদন না নিয়ে কাজ করা আগের মতোই সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো নিয়োগকর্তা বা কর্মী এই সুবিধা গ্রহণ করতে চাইলে এলএমআরএ-এর ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (ইএমএস) অনলাইন পোর্টাল, কল সেন্টার (১৭৫০৬০৫৫) বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
