Published : 02 Mar 2026, 12:13 AM
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৭৪টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিয়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
শনি, রবি ও সোমবার এসব ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার কথা ছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের আবাসনসহ নানা ব্যবস্থা করা হলেও রোববার যাত্রীদের অনেকেই বিমানবন্দরের টার্মিনালেই দুদিন ধরে থাকতে দেখা গেছে।
ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চালাতে শুরু করেছে এয়ারলাইন্সগুলো। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্স তাদের জেদ্দা ও মদিনা ফ্লাইটের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ করেছে।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য এবং এর বাইরেও বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
ইরান আগেই নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। বন্ধ ইসরায়েলের আকাশসীমাও। হামলা হয়েছে কুয়েত বিমানবন্দরে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহারাইন, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আবুধাবি ও দোহার বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুবাই বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকাতেও।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ ৭৪টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানিয়েছেন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার মোট ২৩টি ফ্লাইট প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়। এরমধ্যে এমিরেটস, গালফ এয়ার ও ফ্লাইদুবাইয়ের একটি করে, এয়ার অ্যারাবিয়ার তিনটি, ইউএস-বাংলার ছয়টি এবং বিমানের ১১টি ফ্লাইট ছিল।
এরপর রোববার সবচেয়ে বেশি ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের দুটি, এমিরেটসের পাঁচটি, গালফ এয়ারের দুটি, ফ্লাইদুবাইয়ের চারটি, কাতার এয়ারওয়েজের দুটি, সালামএয়ারের দুটি, এয়ার অ্যারাবিয়ার আটটি, কুয়েত এয়ারওয়েজের দুটি, ইউএস-বাংলার চারটি এবং বিমানের নয়টি ফ্লাইট রয়েছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত আরও ১১টি ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে।
এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজের চারটি, এমিরেটসের পাঁচটি এবং গালফ এয়ারের দুটি ফ্লাইট রয়েছে।

এর বাইরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আরও ২০টি ফ্লাইট বাতিলের তথ্য দিয়েছে ওই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। রোববার বিকালে ওমানের মাস্কাট থেকে সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেটি রাত ১০টা ৫২ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে নামার কথা রয়েছে।
দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে একাধিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যাত্রীরা যেন সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানবন্দরে আসেন।
তবে যাত্রীদের অনেকে বলছেন, ফ্লাইট কখন ছাড়বে এই তথ্য যথাসময়ে পাবেন কী না সেই বিভ্রান্তির কারণে তারা বিমানবন্দরের টার্মিনালেই অবস্থান করছেন। সৌদি আরবের ফ্লাইটগুলো ছাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই বিমানের মদিনা ও জেদ্দাগামী দুটো ফ্লাইটের সময়সূচী পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
জেদ্দাগামী যাত্রী ওমর ফারুককে দুপুরে দেখা যায় ট্রলির ওপর মাথা রেখে ঝিমোচ্ছেন। ওমর বলছেন, জেদ্দায় যেতে শনিবার রাতে বিমানবন্দরে আসেন। কিন্তু কখন ফ্লাইট ছেড়ে যাবে সেই বিড়ম্বনায় বিমানবন্দর ছাড়তে পারেননি। সঙ্গে অনেক আত্মীয়-স্বজন এসেছিল। তাদের বিদায় দিয়ে এক ভাগ্নেকে নিয়ে তিনি বিমানবন্দরেই অবস্থান করছেন। নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ক্লান্তিতে ভেঙে পড়েছেন এই প্রবাসী।
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই দপ্তরের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদেরও বিমানবন্দরে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। তবে বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের ভিড় কমছে না।
বাতিল দুটি ফ্লাইটের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করল বিমান
মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান সব বিমানবন্দর বন্ধ, বিশ্বজুড়ে ফ্লাইট বিঘ্নিত