Published : 02 Sep 2026, 10:16 PM
যুক্তরাজ্যে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে ব্রিটিশ-বাঙালি কমিউনিটির ফুটবলের গত ৫০ বছরের গৌরবোজ্জ্বল অথচ অনথিভুক্ত ইতিহাস সংরক্ষণে একটি ঐতিহ্যবিষয়ক প্রকল্প শুরু হয়েছে।
‘বেঙ্গল ইউনাইটেড: দ্য স্টোরি অব ব্রিটিশ বাংলাদেশি ফুটবল ইন টাওয়ার হ্যামলেটস’ শিরোনামে এ প্রকল্পটি স্থানীয় বাঙালির ফুটবল উন্মাদনা ও সামাজিক বিবর্তনের চিত্র তুলে ধরবে।
স্বাধীনতা ট্রাস্টের উদ্যোগে এবং ‘দ্য ন্যাশনাল লটারি হেরিটেজ ফান্ড’-এর সহায়তায় পরিচালিত এ প্রকল্পটিতে ১৯৭০-এর দশক থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্রিটিশ-বাঙালিদের ফুটবলের বিবর্তন নথিবদ্ধ করা হবে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। গত পাঁচ দশকে লন্ডনের ইস্ট এন্ডে বাঙালির ফুটবল যাত্রা কীভাবে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সামাজিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছে, তা এ গবেষণায় উঠে আসবে।
প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইতিহাসবিদ, লেখক ও সাবেক ফুটবলার তারিক হুসেইন। টাওয়ার হ্যামলেটসে বেড়ে ওঠা তারিক হুসেইন নিজেই একসময় স্টেপনি এফসি, স্পোর্টিং বেঙ্গল ও বিউমন্ট অ্যাথলেটিকের মতো জনপ্রিয় ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। আগামী এক বছর তিনি তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় ফুটবলের দুর্লভ ছবি, নথিপত্র, স্মারক ও প্রবীণদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ সংগ্রহ করবেন।
প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তারিক হুসেইন বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটসে বেড়ে ওঠা আমাদের প্রজন্মের কাছে ফুটবল ছিল বন্ধুত্বের বন্ধন ও আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্র। সত্তরের দশকে এটি ছিল বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার, আবার নব্বইয়ের দশকে মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা থেকে তরুণদের দূরে রাখতে ফুটবল অসামান্য ভূমিকা পালন করেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে গ্রাম ও উপজেলা ভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের তাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত করছে।
স্বাধীনতা ট্রাস্টের সভাপতি জামিল ইকবাল বলেন, “ব্রিটিশ-বাংলাদেশি অভিজ্ঞতার একটি বড় অংশজুড়ে ফুটবল থাকলেও এটি যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা হয়নি। আমাদের অনেক প্রবীণ সদস্য ইতোমধ্যে মারা গেছেন, আর অনেক মূল্যবান স্মারক ব্যক্তিগত সংগ্রহে অযত্নে পড়ে আছে। সেগুলোকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রিটিশ-বাঙালিদের ফুটবল ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সংগ্রহ কার্যক্রম শেষে একটি বৃহৎ জনসম্পৃক্ত উৎসবের আয়োজন করা হবে। সেখানে বিভিন্ন প্রজন্মের ফুটবলারদের গল্প ও সংগৃহীত স্মারকগুলো প্রদর্শনের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাঙালি ফুটবল ঐতিহ্যকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে।