Published : 15 Aug 2026, 04:24 AM
বাহরাইনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানী মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে এবং দূতাবাসের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখন থেকে প্রবাসীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দূতাবাসের ডেস্কে এনআইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কমিশনার মো. আবদুর রহমানেল মাছউদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাহরাইনের তথ্য ও ই-গভর্নমেন্ট কর্তৃপক্ষের (আইজিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী আল কায়িদ, পরিসংখ্যান ও জনসংখ্যা রেজিস্ট্রির উপ-প্রধান নির্বাহী দুয়া সুলতান এবং যোগাযোগ ও বিপণন বিভাগের পরিচালক লুলওয়া।
এছাড়া বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনার মো. আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র একটি অপরিহার্য দলিল। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তিতে এর কোনো বিকল্প নেই। প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হয়ে থাকবে।”
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. রইস হাসান সরোয়ার বলেন, “প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এখন থেকে প্রবাসীরা নিজ দেশে না গিয়েই দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এটি প্রবাসীদের সময় ও অর্থের সাশ্রয় করবে।”
নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান তার বক্তব্যে এনআইডির কারিগরি ও ডিজিটাল গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এনআইডি থাকলে প্রবাসীরা ব্যাংকিং সেবা থেকে শুরু করে সরকারের প্রায় ১০০টিরও বেশি ডিজিটাল সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।”
বাহরাইনের ই-গভর্নমেন্ট কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী আল কায়িদ বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের এনআইডি এবং বাহরাইনের সিপিআর কার্ডের গুরুত্ব অভিন্ন। এই সেবা চালুর ফলে দুই দেশের প্রশাসনিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।”
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে দুইজন প্রবাসী আবেদনকারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রদূত এবং বিদেশি অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয় নির্বাচন কমিশন।
কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সংবাদকর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।