১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হিন্দুদের ওপর হামলায় উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা

দেশে থাকা স্বজনের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সহায়-সম্পদ লুটের ঘটনা বন্ধের আকুতি উঠেছে কমিউনিটিতে।

হিন্দুদের ওপর হামলায় উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীরা
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার একটি মন্দিরের সামনে সেনা টহল।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2024, 01:41 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:13 AM

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বৃহস্পতিবার রাতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শপথ নেওয়ার পরও বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেনস্থার প্রতিবাদ জানান তারা।

যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন বাংলাদেশি শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তাদের এ অবস্থানের কথা জানান বাংলাদেশে থাকা স্বজনের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সহায়-সম্পদ লুটের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আকুতি উঠেছে কমিউনিটিতে।

নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের বাসিন্দা আবুল কাশেম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছেন অনেকে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোন আন্তরিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এমনকি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তারা দায়িত্বে ফিরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। এ থেকেই অনুমিত হয় কতটা অসহায় অবস্থায় নিপতিত হয়েছেন প্রিয়-পরিচিতজনরা। মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নিবেদন রাখছি, সংখ্যালঘু ও অসহায় মানুষের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিন।

ম্যানহাটানে বসবাসরত এম এ সালাম বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানাচ্ছি। জনরোষে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগের পরও কেন হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের ঘটনা কমছে না? কেন পুলিশকে থানায় ফেরার পরিবেশ তৈরি করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে?

ব্যবসায়ী সামিয়া আলম অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ি শেরপুর জেলায়। আশপাশের সব হিন্দু বাড়ি লুট হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা থেকে সাধারণ সমর্থকরাও আক্রান্ত হয়েছেন। জনজীবনে স্বস্তি নেই। এই পরিবর্তনের জন্যই কি বিপ্লব হলো?

ওয়াশিংটন ডি.সিতে বসবাসরত অর্থনীতির অধ্যাপক ও লেখক ফাইজুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস প্রত্যাশা পূরণে করবেন বলেই আশা করি। বিশেষ করে চলমান অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। একইসঙ্গে আশা করছি যে এই সরকারের চেষ্টায় সুন্দর একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে

নিউ অর্লিন্সে বসবাসরত অধ্যাপক এমিরিটাস মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের কাছে জনসাধারণের প্রত্যাশা স্বাভাবিক কারণেই অনেক বেশি। সেসব পূরণে তারা আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন বলে আশা করছি। বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না বলে মনে করছি এবং এটাই হচ্ছে সময়ের দাবি।

নিউ ইয়র্কে ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ইউএসবিসিসিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ও কার্যনির্বাহী লিটন আহমেদ মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জনমনে আস্থা তৈরি করে সুষ্ঠুভাবে একটি নির্বাচনের পথে জনগণকে ধাবিত করতে পারবেন বলে আশা করি এজন্য অবশ্য কিছু সময় দিতে হবে তাকে। কারণ, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।